
তবে বর্তমান কমিশন এ বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম জানিয়েছেন, আইপিওর ক্ষেত্রে আমাদের ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন বা বাস্তব পরিদর্শনের কোনো আইন নেই। এজন্য ট্রাস্টি, ইস্যু ম্যানেজার রয়েছে। তারাই ডিউডিলিজেন্স সার্টিফিকেশন দেয়। তবে পরিদর্শনের গুরুত্ব রয়েছে। এজন্য আমরা ইনফরমালি খোঁজখবর নিচ্ছি। অন্যরাও কোম্পানির জমি, বিল্ডিং, উৎপাদন ইত্যাদির তথ্য ও ছবি দিয়ে সহযোগিতা করছেন। আগামীতে আমরা এটা ইনকরপোরেট করব। মিথ্যা তথ্য ও অসংগতির কারণে আমরা গত তিন মিটিংয়ে ২৬টি কোম্পানিকে জরিমানা ও সতর্ক করেছি। অ্যাকাউন্টিংয়ে যারা উল্টোপাল্টা করে তাদেরও জরিমানা করেছি। এসব বিষয়ে আমরা কঠোর থাকব, যাতে ডিসক্লোজারের বিষয়ে কেউ ভুল তথ্য দিয়ে পার পেতে না পারে।
এক নজরে গেল বছরের আইপিও কোম্পানিগুলোর পারফরমেন্স:
এসএস স্টীল:
গত বছরের শুরুতে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে এসএস স্টীল লিমিটেড। ২ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছেড়ে কোম্পানিটি বাজার থেকে ২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তালিকাভুক্তির পর প্রথম বছরেই ১৫% স্টক ডিভিডেন্ড দিয়ে শেয়ার সংখ্যা বাড়ানো হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার দর ফেসভ্যালুর আশে পাশে ১০.৩০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। এ কোম্পানিকে বাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছে সিটিজেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড:
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে জেনেক্স এনফোসিস লিমিটেড। ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে কোম্পানিটি বাজার থেকে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তালিকাভুক্তির পর প্রথম বছরে ৫% ক্যাশ ও ১৫% স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করা হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫৮.৩০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। এ কোম্পানিকে বাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছে ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড।
নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেড:
গত বছরের ২৭ মে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেড। ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে কোম্পানিটি বাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তালিকাভুক্তির পর প্রথম বছরে ৩% ক্যাশ ও ৭% স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করা হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার দর ১২.৯০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। এ কোম্পানিকে বাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছে বানকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস
গত বছরের ১৩ জুন পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে কোম্পানিটি বাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তালিকাভুক্তির পর প্রথম বছরে ২% ক্যাশ ও ১০% স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করা হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২২.৪০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। এ কোম্পানিকে বাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছে ইবিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
সী পার্ল বীচ রিসোর্টস অ্যান্ড স্পা লিমিটেড:
গত বছরের ১৬ জুলাই পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে সী পার্ল রিসোর্টস। ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছেড়ে কোম্পানিটি বাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তালিকাভুক্তির পর প্রথম বছরে ৫% স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করা হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৭৯.১০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। এ কোম্পানিকে বাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছে বানকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
কপারটেক ইন্ডাষ্ট্রিজ:
গত বছরের ৫ আগস্ট পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে কপারটেক ইন্ডাষ্ট্রিজ। ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে কোম্পানিটি বাজার থেকে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তালিকাভুক্তির পর প্রথম বছরে ৭% ক্যাশ ও ৫% স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করা হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২০.৭০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। এ কোম্পানিকে বাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছে এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড।
রিংসাইন টেক্সটাইল:
রিংসাইন টেক্সটাইল ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু করে। ১৫ কোটি শেয়ার ছেড়ে কোম্পানিটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। আইপিও আবেদনের শুরু থেকেই কোম্পানিটিকে ঘিরে নানা বিতর্ক থাকলেও তালিকাভুক্তির সুযোগ পেয়ে যায়। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৬.৪০ টাকা। তালিকাভুক্তির মাত্র ৮ মাসের মধ্যেই কোম্পানিটির কাছ থেকে তথ্য বঞ্চিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ৩০ জুন, ২০২০ অর্থবছর শেষ হলেও কোম্পানিটি এখনো তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি’২০-মার্চ’২০) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। এছাড়া
রিংসাইনকে বাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছে এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মাজ./নি























Recent Comments