সোমবার, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeএক্সক্লুসিভঋণ খেলাপি বাড়ছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের, দুশ্চিন্তায় আমানতকারীরা
spot_img
spot_img

ঋণ খেলাপি বাড়ছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের, দুশ্চিন্তায় আমানতকারীরা

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ঋণ খেলাপি দিন দিন বেড়েই চলছে। এনিয়ে সঠিক সময়ে ব্যাংকটি থেকে অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। তাই অচিরেই ব্যাংকটির ঋণ খেলাপির সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আমানতকারীরা। পাশাপাশি ব্যাংকটি থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করে বিদেশে পাচার হয়েছে কিনা তা সঠিকভাবে তদন্তের অনুরোধ জানান তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৪ সালে সর্বনিম্ন মুনাফা করেছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। ঋণ খেলাপির বিপরীতে প্রভিশন বেড়ে যাওয়ায় মুনাফা বা শেয়ার প্রতি আয় কমেছে কোম্পানিটির।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, ২০২৪ সালে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ১৬৯ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক দশমিক ৫২ টাকা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে মুনাফা হয়েছিল ৩৫৮ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২২ সালে যা ছিল ৩৫৮ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর ২০২০ ও ২০২১ সালে মুনাফা হয়েছিল যথাক্রমে ১৯১ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও ২৫৯ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৪ সালে সর্বনিম্ন মুনাফা হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে, কোম্পানিটি ২০২১ সালের প্রায় এক কোটি টাকা অবণ্টিত লভ্যাংশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) জমা দেয়নি। তিন বছরের মধ্যে কোম্পানির অবিণ্টিত লভ্যাংশ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী উল্লেখিত ফান্ডে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অবণ্টিত লভ্যাংশ এই ফান্ডে জমা না দিয়ে বিএসইসির নির্দেশনা অমান্য করেছে শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৮৫ লাখ ৫৬ হাজার ১৯৪ টাকা অবণ্টিত লভ্যাংশ তিন বছর অতিবাহিত হলেও ৭মে, ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত উল্লেখিত ফান্ডে জমা দেয়নি কোম্পানিটি।

এদিকে বিএসইসির নির্দেশনা অমান্য করায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলেন, আমরা সকলেই জানি অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় অধিকাংশ ব্যাংকে সুশাসন বিরাজমান। কিন্তু সেই ব্যাংকেই যদি কমপ্লায়েন্স না মানা হয়, সুশাসন না থাকে, তবে তা দুঃখজনক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ ‘এসজেআইবিপিএলসি চতুর্থ সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড’ নামে ৬০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী টায়ার-২ ক্যাপিটাল শক্তিশালী করার জন্য প্রাইভেট প্লেসমেন্টে এ বন্ড ইস্যু করা হবে, যা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে ইস্যু করা হবে। গত ২৯ মে এ সংক্রান্ত খবর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়। সাত বছর মেয়াদি এ বন্ডের বৈশিষ্ট্য হবে—ফুললি রিডিমঅ্যাবল, আনসিকিউরড, নন-কানভার্টেবল ও ফ্লোটিং রেট।

ব্যাংকটির প্রতিনিয়ত ঋণ খেলাপির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুশাসনে ঘাটতি রয়েছে। এমন একটি ব্যাংক বন্ড ছেড়ে সেই বন্ডের অর্থ সুদে আসলে সঠিকভাবে পরিশোধ করতে পারবে কি-না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, ২০২৩ সালে শাহজালাল ইসলামি ব্যাংকের ঋণ খেলাপির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৬৮ কোটি ৯০ লাখ ১৭ হাজার ৮৯০ টাকা। আর ২০২৪ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১১৯ কোটি ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৬৯৭ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ঋণ খেলাপির পরিমাণ বেড়েছে এক হাজার ৫০ কোটি ২০ লাথ ৩৬ হাজার ৮০৭ টাকা।

এছাড়াও ২০২৪ সালে কোম্পানিটির মোট লোন বা ইনভেস্টমেন্ট রয়েছে ২৬ হাজার ৮৯৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬৬৩ টাকা। এর বিপরীতে ঋণ খেলাপির পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর আগের বছর ঋণ খেলাপির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ।

এদিকে ২০২৪ সালে ঋণ খেলাপির বিপরীতে শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক প্রভিশন হিসেবে রেখেছে ৭৯১ কোটি ৬১ লাখ হাজার ৬৯৫ টাকা। এর আগের বছর যা ছিল ৪০১ কোটি ৯৯ লাখ ৩৫ হাজার ৫১৮ টাকা। এক্ষেত্রে প্রভিশন বেড়েছে ৯৭ শতাংশ। এই প্রভিশন বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে

তথ্য বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিল ২৭২ কোটি ৪৩ লাখ ৪২ হাজার ৩৬১ টাকা। বর্তমানে শেয়ারগুলোর বাজার মূল্য এসে দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি ৭৯ লাখ ৮ হাজার ৯৩৯ টাকা। এক্ষেত্রে আনরিয়েলাইজড লস বা লোকসানে রয়েছে ১০৬ কোটি ৬৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪২২ টাকা।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ,২৫) শাহজালাল ইসলামি ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে এক দশমিক ০৪ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল এক দশমিক ০৯ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস কমেছে দশমিক ০৫ টাকা।

শাহজালাল ইসলামি ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা জাফর সাদেক ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানির মুনাফা কমেছে। আর আমাদের হাতে থাকা অবণ্টিত লভ্যাংশের অবশিষ্ট অংশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে এখনো জমা দিতে পারিনি। তবে আগামীতে জমা দেবো।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আমরা আনরিয়েলাইজড লসে বা লোকসানে রয়েছি। আমাদের ম্যানেজমেন্ট ভালো শেয়ারেই বিনিযোগ করেছে। কিন্তু পুঁজিবাজারের অবস্থা অনেক দিন ভালো ছিল না। সে কারণেই আমরা আনরিয়েলাইজড লোকসানে রয়েছে ব্যাংক।

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জানান, ব্যাংকটির ম্যানেজমেন্টের অদক্ষতা ও অসততা রয়েছে। যে-কারণে ৪২টি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করলেও একটিও বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী লাভে নেই। মুষ্ঠিমেয় কিছু মানুষের স্বার্থ হাসিলে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যেই মূলত ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে এসব শেয়ারে। আর এ কাজে ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে পরিচালনা পর্ষদ জড়িত থাকতে পারে।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, ৫ আগস্ট, ২০২৪ তারিখ পরবর্তী অনেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। কারণ অনেকেই টাকা বিদেশে পাচার করেছে অথবা টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। আগামীতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এখন এই খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংককে এগিয়ে আসতে হবে। এর সাথে যারা জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments