সোমবার, ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeস্বাস্থ্য বার্তাকরোনার ভূয়া টেস্ট - কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিল রিজেন্ট হাসপাতাল!
spot_img
spot_img

করোনার ভূয়া টেস্ট – কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিল রিজেন্ট হাসপাতাল!

 

 

 

 

 

ডেইলী শেয়ারবাজার ডেস্ক:

করোনায় সরকার নির্ধারিত কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের একটি বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতাল। শুরু থেকেই অবশ্য হাসপাতালটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। করোনা পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট প্রদান, রোগীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আসে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে। এমনকি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসকরাও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আনেন। এসব অভিযোগে গতকাল হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। অভিযানে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির  দু’টি শাখা থেকে চারজনকে আটক করা হয়। হাসপাতালটি বাসাবাড়ির মতো একটি ভবনে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছিল।

এই করোনা মহামারির সময়ে প্রভাব খাটিয়ে করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছিলো হাসপাতালটি। জানা যায়, পাবলিক-প্রাইভেট কো-অপারেশনের আওতায় সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় শুরু থেকেই কার্যক্রম চালাচ্ছিলো তারা। এই চুক্তিতে রোগীদের কাছ থেকে সরকারি হাসপাতালের মতো চিকিৎসা দেয়ার কথা থাকলেও, রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, একই বিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও অর্থ  হাতিয়ে  নেয়ার পাঁয়তারা করছিলো হাসপাতালটি।

এদিকে ছয় বছর আগে হাসপাতালটির নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নতুন করে নিবন্ধনের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। অথচ অনুমোদনহীন এই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, এটিকে করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে।  র‌্যাব অভিযান চালানোর পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়, অনুমোদনহীন একটি হাসপাতালকে কীভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোভিডের জন্য অনুমতি দিলো? সর্বশেষ ২০১৪ সাল পর্যন্ত হাসপাতালটির অনুমোদন ছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫০ শয্যার রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখার লাইসেন্স দেয়া হয় ২০১৩ সালের ৮ই ডিসেম্বর। এই হাসপাতালের লাইসেন্সের  মেয়াদ  শেষ হয় ২০১৪ সালের ৩০শে জুন। রক্ত সঞ্চালনা কার্যক্রম ছাড়া এই শাখায় প্যাথলজিক্যাল ল্যাবের লাইসেন্স (নং-৭৮৭৬) দেয়া হয় ২০১৩ সালের ৮ই ডিসেম্বর। এই লাইসেন্সের  মেয়াদও  শেষ হয় ২০১৪ সালের ৩০শে জুন।

চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসার চেয়ে  ভোগান্তিই  বেশি  পোহাতে হয়েছে। করোনা পরীক্ষা থেকে শুরু করে নানা বিষয়ে আছে প্রতারণার অভিযোগ। সরকারি  প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষার ফল জানানোর সনদ জাল করার অভিযোগও রয়েছে। হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নেয়া একজন রোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি শুরুর দিকে করোনা আক্রান্ত ছিলাম। এখানে এসে ভর্তি হই। আমার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা বিল করেছিলো। তাদের সঙ্গে সরকারের চুক্তি আছে সেটা আমি জানতাম না।

এদিকে গত ১৫ই মে সরকারিভাবে নিযুক্ত দু’জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বরাবর আলাদা দুইটি চিঠিতে রিজেন্ট হাসপাতালের বিভিন্ন ত্রুটির বিষয়ে জানান। তারা হাসপাতালে থাকা চারটি আইসিইউতে ত্রুটিপূর্ণ সেন্ট্রাল অক্সিজেন ও তিনটি ভেন্টিলেটর থাকার কথা জানান। এ ছাড়াও আইসিইউতে দক্ষ জনবল না থাকা ও জরুরি কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার ব্যবস্থা না থাকার কথাও জানান তারা। ওষুধ ও সুরক্ষা সামগ্রীর ঘাটতির বিষয়েও জানানো হয় ওই চিঠিতে।  প্রয়োজনীয় উপকরণ ও জনবল না পাওয়ার বিষয়ে হাসপাতাল চেয়ারম্যানকে জানানো হলে তিনি চিকিৎসককে হুমকি ও ভয়  দেখানোর কথা উল্লেখ করে বাজে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন চিকিৎসকরা। সরকারিভাবে ১৬ই মে পর্যন্ত চিকিৎসক নিয়োগ থাকলেও রিজেন্ট হাসপাতালে বিভিন্ন সময় রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চিকিৎসা করানো হতো রিজেন্ট হাসপাতালে। একইসঙ্গে আছে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ। এই হাসপাতালে কেবল ভর্তি থাকা রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করানোর অনুমতি থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সনদ জাল করে নমুনা পরীক্ষার ফল জানানোর অভিযোগও আছে এই  প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালে চিকিৎসকদের রাতে বাইরে রাখারও অভিযোগ আছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি গত তিন মাসে কমপক্ষে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে। তিনি সেখান থেকে সংগ্রহ করা করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ দেখিয়ে বলেন, এই সনদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ইস্যু করা হয়নি।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১লা জুন রিজেন্ট হাসপাতাল চেয়ারম্যান  মো. সাহেদের সই করা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দেয়া এক চিঠিতে হাসপাতালের উত্তরা শাখায় ৯০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও মিরপুর শাখায় এক কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে অনুরোধ করেন।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, করোনার টেস্ট না করেই রিপোর্ট দিতো রিজেন্ট হাসপাতাল। অভিযানে অসংখ্য ভুয়া রিপোর্টের কাগজ, বিলসহ নানা অনুষঙ্গ জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালের মিরপুর শাখায়ও অভিযান চালায় র‌্যাব।

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments