ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: কলকাতার ফুটবলে ঘুরলে নানা ধরনের খবর পাওয়া যায়। বিচিত্র সব খবর সাধারণ মানুষকে আনন্দ দেয়, অবাক করে। কলকাতার ফুটবল গ্যালারিতে এক নারী ৩৩ বছর ধরে চকলেট বিক্রি করছেন। তিন প্রধানের নামে চকলেট বিক্রি করেন তিনি।

মোহামেডান, ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব এবং মোহন বাগানের রঙে চকলেট বিক্রি করে আসছেন যমুনা দাস। কলকাতার ফুটবলদর্শক লজেন্স দিদি বলে ডাকেন। এই তিন দলের খেলা হলে সেখানেই ছুটে যান। তার ঝুলি ভরা চকলেট। ফুটবলের তিন প্রধানের রঙে এই চকলেট বিক্রি করেন থাকেন তিনি। যারা জানেন না তাদের কাছে অবিশ্বাস্য লাগবে। অবিশ্বাস হওয়ায় ব্যাগ থেকে বের করে দেখালেন ইস্ট বেঙ্গলের রঙে লাল-হলুদ রঙের চকলেট। চার পিস পাঁচ টাকা। দুইটা লাল রঙের আর দুইটা হলুদ রঙের চকলেট।
বলতে বলতে বের করে দেখালেন মোহামেডানের সাদাকালো রঙের চকলেট। বললেন, ‘আমি ৩৩ বছর ধরে বিক্রি করছি। মূলত তিনি ইস্ট বেঙ্গলের সমর্থক। মঙ্গলবার কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ইস্ট বেঙ্গলের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। লাল-হলুদের ১০৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। সেখানেও তিনি চকলটে নিয়ে এসেছেন। সবাই তাকে চেনে। লজেন্স দিদি বলে ডাকছেন। কলকাতার সাংবাদিকরাও তাকে ভালো করে চেনেন।
একাধিক সাংবাদিক বললেন, ‘আরে এই দিদি ইস্ট বেঙ্গলের সঙ্গেই আছেন। যমুনা দাস নামের লজেন্স দিদির স্বামী গোপাল দাস, ২০১৯ সালে মারা গেছেন। তার বাড়ি বাংলাদেশের বিক্রমপুরে। আর যমুনা দাসের বাড়ি ফরিদপুরে হলেও তার জন্ম ভারতে।
বললেন, ‘বাজার থেকে কিনে এনে প্যাকেট করে বিক্রি করি।’ ফুটবল মাঠে চকলেট বিক্রি করেই তার জীবন চলে। অন্য কোনো পেশায় গেলে আরো বেশি আয় করতে পারতেন কিন্তু সেটা না করে ফুটবলের সঙ্গেই জীবন বেঁধে নিয়েছেন। ঘরে স্বামী নেই, সন্তান নেই, যমুনা দাসের চেহারায় কষ্টের ছাপ ফুটে রয়েছে।
যমুনা দাস বললেন, ‘পেটের সন্তান নেই, তোমাকে কে বলেছে। আমি কি বলেছি আমার সন্তান নেই। আমার সন্তান ভারতবর্ষের ফুটবলাররা। একটু রেগেই গেলেন,‘ আমার সন্তান হয়নি। প্লেয়াররাই আমার সন্তান। এসব কথা বলতে বলতে ব্যাগ থেকে মোহন বাগান ক্লাবের সবুজ-মেরুন রঙের চকলেট বের করে দেখালেন যমুনা দাস। শেষ পর্যায়ের অনুষ্ঠান তখনো চলছিল। বাংলাদেশের সংগীত শিল্পী মেহেরিনের গানের তালে তাল মিলিয়ে ঘাড় নাড়াতে নাড়াতে বৃষ্টি মাথায় বাড়ির পথে হাঁটলেন কলকাতার ফুটবলের লজেন্স দিদি, যমুনা দাস।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments