ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: আমদানির পর অবশেষে দামের চূড়া থেকে নামতে শুরু করেছে কাঁচামরিচ। এক দিনের ব্যবধানে অর্ধেকে নেমেছে দাম। তবে বড় বাজারের তুলনায় ছোট বাজারগুলোতে এটি দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে মরিচের দাম কমলেও বাড়ছে আলুর দাম। তিন-চার দিনের ব্যবধানে পণ্যটি কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১৫ টাকা।

মরিচ বিক্রেতারা বলছেন, ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় দাম কমে গেছে। আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমে আসবে। অন্যদিকে সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও পাইকারি পর্যায়ে বাড়ার কারণে খুচরায় দাম বেড়েছে বলে জানান আলু ব্যবসায়ীরা।
গত রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে। এক দিনের ব্যবধানেই দাম অর্ধেকের বেশি কমেছে। গতকাল সোমবার এটি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে অন্যান্য বাজারে মরিচ বিক্রি হচ্ছে কারওয়ান বাজারের দ্বিগুণ দামে।
গতকাল রাজধানীর মগবাজার, রামপুরা, হাতিরপুল কাঁচাবাজার ও তেজকুনিপাড়া এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে।
মগবাজারে প্রতি কেজি মরিচ ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন সবজি ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ। কারওয়ান বাজারে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলে এখানে দাম দ্বিগুণের বেশি কেন? এমন প্রশ্ন করলে তিনি সমকালকে বলেন, ‘আমার আগের কেনা মরিচ। সে জন্য বেশি দামে বিক্রি করছি।’ একই কথা বলেন তেজকুনিপাড়ার সবজি বিক্রেতা শরিফুল। তাঁর দাবি, গতকাল ৩০০ টাকা দরে পাইকারি কিনে খুচরায় ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ঢাকার বাইরেও দাম নেমেছে অর্ধেকে। কোথাও কোথাও তিন-চতুর্থাংশ দাম কমেছে। আমদানির কারণে দাম কমলেও মরিচের বাজারে বড় ধরনের অসাধু চক্র রয়েছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
তাঁরা বলছেন, এক সপ্তাহে হুহু করে দাম হাজার টাকায় উঠল। এখন সেই মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। মাঝের এ কয়েক দিন কারসাজি করে ভোক্তার পকেট কেটে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা।
দাম দ্রুত কমার পর গতকাল রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে মরিচের বাজারে অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে ১৪৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া সুপারশপে মরিচের দাম নিয়ে কারসাজি হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে আজ সুপারশপগুলোর প্রতিনিধিদের অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার কারওয়ান বাজারে বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফুল হাসান সমকালকে বলেন, ‘এক সপ্তাহে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেলেন মরিচ ব্যবসায়ীরা। অথচ ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান দেখা যায়নি। মানুষকে কষ্ট দিয়ে তারা আরাম করে। এখন ভারত থেকে মরিচ আসছে। দাম তো এমনি কমে যাবে। এখন অভিযান চালিয়ে লাভ কী?’
এদিকে তিন দিন আগেও ঢাকার বাজারে আলুর কেজি বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। দাম বেড়ে গতকাল কারওয়ান বাজারে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে মগবাজারে প্রতি কেজি আলু ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
কারওয়ান বাজারের আলু বিক্রেতা খলিলুর রহমান জানান, উৎপাদন এলাকায় আলুর দাম বেড়েছে। এ কারণে ঢাকার বাজারেও দাম বেড়েছে। তবে সরবরাহে ঘাটতি নেই বলে জানান তিনি। ঢাকার বাইরেও কমছে দাম ঢাকার বাইরেও কাঁচামরিচের দাম দ্রুত কমছে। কুড়িগ্রামে পণ্যটি দুদিন আগেও পাইকারিতে প্রতি কেজি ৫২০ টাকা বিক্রি হলেও সোমবার ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ভারত থেকে আমদানি এবং আগের কেনা মরিচ পচে যাওয়ায় কম দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। জেলার জিয়া বাজারে খুচরা পর্যায়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে মরিচ। মানিকগঞ্জে বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করেছে ভোক্তা অধিদপ্তর।
অভিযানে দেখা যায়, পাইকারি বাজার থেকে ১৬০ টাকায় কাঁচামরিচ কিনে খুচরায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে বিক্রি, ক্রয়কৃত পণ্যের রসিদ সংরক্ষণ না করা এবং মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধের দায়ে পাঁচ ব্যবসায়ীকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে অন্যান্য বাজারের ব্যবসায়ীরা কেজিতে ২০০ টাকা কমিয়ে মরিচ বিক্রি করেছেন।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ঈদের পর থেকে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। কখনও হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে ভারত থেকে আমদানির খবরে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম কমতে শুরু করেছে। গতকাল পৌর তহবাজারে খুচরা পর্যায়ে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২৮০ টাকায়। যশোরে কেজিতে দাম কমেছে ৩৫০ টাকা। জেলার বড়বাজার, রেলবাজার ও চুয়াডাঙ্গা স্ট্যান্ড কাঁচাবাজারে গতকাল খুচরায় মরিচের কেজি বিক্রি হয়েছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়।
এক দিন আগে রোববার বিক্রি হয়েছিল ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। আর দুই দিন আগে শনিবার বিক্রি হয়েছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.


































Recent Comments