ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ঈদুল আজহার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পশু কোরবানি। ঈদের নামাজের পর থেকেই পশু কোরবানি দেওয়া শুরু হয়ে যায়। সবাই সাধ্য অনুযায়ী কোরবানি করে থাকেন। তবে এই ঈদে পশু জবাই করার পর স্থান ও ঘর পরিষ্কার করাটাই সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকে।
রাস্তা, অ্যাপার্টমেন্ট, পার্কিং লট এমনকি খোলা মাঠ পর্যন্ত আবৃত থাকে পশুর রক্ত, ব্যবহৃত অন্ত্র এবং বর্জ্যে। এমন দৃশ্য যেমন দেখতে ভালো লাগে না, ঠিক একইভাবে আশপাশে ছড়িয়ে থাকা আবর্জনার বাজে গন্ধ সহ্য করাও মুশকিল হয়ে যায়।
তাই আসুন জেনে নিই কোরবানি করার পর ঘর ও পরিবেশ যেসব উপায়ে পরিচ্ছন্ন রাখবেন-
১. একটি উপযুক্ত স্থান নির্বাচন
শহর বা গ্রাম নির্বিশেষে একটি নির্দিষ্ট এলাকার লোকজন আলাদাভাবে কোরবানি না দিয়ে কয়েকজন একসঙ্গে হয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি করা উত্তম। মূলত বসতবাড়ি থেকে যথাসম্ভব দূরে এমন একটি স্থান নির্বাচন করা উচিত, যেখান থেকে সহজেই পশুর বর্জ্য নিষ্কাশন করা যায়। এতে করে সিটি করপোরেশন কর্মীরা দ্রুত সময়ে বর্জ্য অপসারণের কাজ করতে পারবে।
২. পশুর রক্ত পরিষ্কার
পশু জবাইয়ের পর প্রথম কাজ হচ্ছে পশুর রক্ত সরিয়ে ফেলা। এর জন্য রক্ত সম্পূর্ণ ঝরে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অতঃপর পর্যাপ্ত পানি দিয়ে রক্ত ধুয়ে ফেলতে হবে। রক্ত অপসারণের জন্য কাছাকাছি কোনো ড্রেন ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন রক্তের সঙ্গে কোনো কঠিন বর্জ্য ড্রেনের মুখ বন্ধ করে না দেয়।
৩. বর্জ্য খোলা স্থানে না রাখা
পশুর রক্তসহ অন্যান্য কঠিন ও তরল বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে রাখা ঠিক নয়। কেননা এতে রক্ত আর নাড়ি-ভুঁড়ি বাতাসের সংস্পর্শে এসে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুর্গন্ধ ছড়ায়। এগুলো গর্ত করে ভেতরে রেখে মাটিচাপা দিতে হবে, অথবা সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িতে রেখে আসতে হবে। গাড়ি আসার আগ পর্যন্ত কোনো পলিব্যাগে ভরে কাছাকাছি কোনো ডাস্টবিনে গিয়ে ফেলে আসা যেতে পারে।
৪. চামড়ার ব্যবস্থাপনা
কোরবানির পর যত দ্রুত সম্ভব পশুর চামড়া বিক্রি বা দান করে দিতে হবে। ক্রেতা হিসেবে এতিমখানা, মাদ্রাসা বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান চামড়াগুলো অবশ্যই কোথাও স্তূপ করে ফেলে রাখবেন না। কারণ এগুলো কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করে ফেলে।
৫. নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা রাখুন
কোরবানির মাংস কাটাকাটির সময় কসাইকে মাংস সংরক্ষণ এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য বড় ব্যাগ দেওয়া ব্যবস্থা করুন। এতে কাটাকাটি মাংসগুলো যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকবে না। পাশাপাশি মাছি বা অন্যান্য পোকামাকড় বসবে না। আর একটি নির্দিষ্ট ব্যাগে কোরবানির পশুর বর্জ্য ও অন্যান্য ময়লা-আবর্জনা ফেলুন। এতে করে জীবাণু এবং পরজীবী ছড়িয়ে পড়বে না।
৬. সিটি করপোরেশনে ফোন
অনেকে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ফোন দিয়ে কোরবানির পর জমা ময়লাগুলো নিয়ে যেতে বলেন। চাইলে আপনিও করতে পারেন এটি। এতে করে শুধু আপনার বাড়ি নয়, এলাকায় পরিচ্ছন্ন থাকবে।
৬. মাংস বাড়িতে নেওয়ার সময় সতর্কতা
মাংস প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার পর বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় মাংস ভর্তি বালতিতে কোনো রকম ফুটো থাকা চলবে না। কোরবানির স্থান থেকে বাড়ি দূরে হলে রাস্তা দিয়ে বয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে মাংসের রক্ত চুয়ে পড়ছে কিনা। তাই মাংস বহনকারী বালতিগুলো নিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় সাবধান থাকা জরুরি।
৭. ঘরের ভেতরের পরিচ্ছন্নতা
মাংস ঘরে আনার আগেই ঘরের মেঝেতে প্লাস্টিকের বড় শিট বা পাটি বিছিয়ে রাখতে হবে। মাংস আনার পর তা কাটা, ওজন, ও বণ্টনের জন্য এই পাটি ব্যবহার করতে হবে। কাজ শেষে পাটি উঠিয়ে পুরো মেঝে প্রথমে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর হালকা গরম পানিতে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে তা দিয়ে মেঝে মুছতে হবে।
৮. মাংস কাটার সরঞ্জামাদি পরিষ্কার করা
মাংস রান্নার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলে এবার মাংস কাটার ছোট-বড় ছুরি ও বটি পরিষ্কার করার পালা। এগুলো নোংরা অবস্থায় রেখে দিলে অচিরেই নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে পরের ঈদুল আজহায় এগুলো ব্যবহারের সময় পড়তে হবে বিড়ম্বনায়। তাই এগুলোও ভিম বার দিয়ে মেজে ও হালকা গরম পানিতে ধুয়ে গুছিয়ে তুলে রাখতে হবে।
৯. দুর্গন্ধ দূরীকরণে জীবাণুনাশক ব্যবহার
কোরবানির পরবর্তী টানা কয়েকদিন ধরে যে বিষয়টি সবচেয়ে বিড়ম্বনার উদ্রেক করে তা হচ্ছে দুর্গন্ধ। বাড়ির ভেতরে-বাইরে এবং আঙ্গিনায় সর্বত্র কাঁচা মাংসের গন্ধ ছড়িয়ে এক অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে রাখে। এই দুর্গন্ধ পুরোপুরি দূর করা না গেলেও অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। এর জন্য কোরবানির স্থানে পানি ঢেলে দেওয়ার পর ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিতে হবে। এতে রক্তের দাগ ও গন্ধ অনেকটাই কমে আসে।
১০. হাতের দুর্গন্ধ দূরীকরণে লেবুর রস
লেবুর রস হাত থেকে মাংসের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করবে। এক টুকরো লেবু কেটে দুই হাতে ভালো করে ঘষুন। তারপর পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। মাংসের গন্ধ দূর হয়ে যাবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments