ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সঞ্চয়পত্র কেনার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে গ্রাহকরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ঘরে বসেই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন এবং অনলাইনে মুনাফা পাওয়ার সুযোগও পাবেন।
অর্থ বিভাগের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনা শাখার এক সভার কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে চালু করা হচ্ছে ‘সেলফ সার্ভিস মডিউল’। এই ব্যবস্থায় গ্রাহক নিজেই অনলাইনে আবেদন, তথ্য প্রদান ও অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কেনার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
নতুন ব্যবস্থায় জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস) যুক্ত করা হবে। ফলে সঞ্চয়পত্র কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাবের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।
হিসাব যাচাই সম্পন্ন হলে পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। এতে সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য ব্যাংক বা সঞ্চয় অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হবে না।
সরকারের ধারণা, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবের মালিকানাও নিশ্চিত করা যাবে। ফলে অন্যের হিসাব ব্যবহার করে সঞ্চয়পত্র কেনা, ভুল তথ্য দেওয়া কিংবা ভুয়া পরিচয়ে লেনদেনের সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে iBAS++ সিস্টেমে অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাব যাচাই করা হচ্ছে। এখন এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে। ভবিষ্যতে এটি রিয়েল টাইমে সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ব্যাংক হিসাব নম্বর ও মালিকানা নিশ্চিত করা গেলে ভুল তথ্য ব্যবহার করে সঞ্চয়পত্র কেনা এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধ করা সহজ হবে।
বর্তমানে চেকের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকি রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চেকের অর্থ ব্যাংকে জমা বা ক্লিয়ার হওয়ার আগেই সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়ে যেতে পারে, যা আর্থিক অনিয়মের সুযোগ তৈরি করে।
এ সমস্যা সমাধানে জাতীয় সঞ্চয় ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকাশ ঘর বা ক্লিয়ারিং হাউসের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চেক ক্লিয়ার না হওয়া পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র ইস্যু বন্ধ রাখার ব্যবস্থাও করা হবে।
গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ জালিয়াতির বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রির প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করার লক্ষ্যও রয়েছে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে অটোমেশনের আওতায় আনার নির্দেশনা রয়েছে। এটি পুরোপুরি চালু হলে গ্রাহকরা ঘরে বসেই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন এবং অনলাইনে মুনাফা গ্রহণ করতে পারবেন।
তবে পুরো ব্যবস্থাকে দ্রুত অটোমেশনের আওতায় আনতে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, প্রযুক্তিগত জটিলতা, রিয়েল টাইম ভেরিফিকেশন চালু করা এবং গ্রাহকদের ডিজিটাল দক্ষতা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের জন্য সহজ, ব্যবহারবান্ধব ও বাংলা ভাষাভিত্তিক ইন্টারফেস তৈরি করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা গেলে সঞ্চয়পত্র কেনাবেচায় স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও গ্রাহকসেবা-সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments