ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সিনেমার ব্যবসা মানেই এখন হাজার কোটি টাকার ক্লাব, থ্রি-ডি ভিজ্যুয়াল আর হাজার হাজার স্ক্রিনে একসঙ্গে একচেটিয়া মুক্তি। কিন্তু এই রমরমা ব্যবসার আড়ালে যে ভালো কনটেন্টের ছোট বা মাঝারি বাজেটের ছবিগুলো স্রেফ স্ক্রিন না পেয়ে অকালেই ঝরে যাচ্ছে, তা নিয়ে এবার আওয়াজ তুললেন ওটিটি ও সিনেমার ‘ভীষ্মলোচন’ মনোজ বাজপেয়ী।
মনোজের নতুন পিরিয়ড-ড্রামা ‘গভর্নর’ যেখানে মাত্র অল্প কয়েকটি থিয়েটারে শো পেয়েছে, সেখানে একই সময়ে বড় কাস্টিংয়ের ছবিগুলো ডিস্ট্রিবিউটরদের চাপ দিয়ে ৮০% শো দখল করে রেখেছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বলিউডের এই সিন্ডিকেট কালচারের বিরুদ্ধে তার এই বক্তব্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
মনোজ বাজপেয়ী বলেছেন, ‘ছোট চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে দর্শকদের সমর্থন বা পৃষ্ঠপোষকতা শুরুই হয় প্রদর্শনী থেকে। যেদিন সরকার এই নীতি তৈরি করবে যে প্রতিটি চলচ্চিত্রই পর্যাপ্ত শো পাবে, সেদিনই তারা এক ধরণের ন্যায্য প্ল্যাটফর্ম বা সমান সুযোগ পাবে। যতদিন না আমরা তা পাচ্ছি, ততদিন টিকে থাকাটা সত্যিই কঠিন।’
মনোজ মহারাষ্ট্র সরকারের নিয়মের কথাও বলেছেন, যা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। মহারাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে প্রাইম-টাইমে বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যক মারাঠি সিনেমা প্রদর্শন করতে হয়। এর ফলে বলিউডের মেগা-বাজেট ছবির ভিড়েও আঞ্চলিক বা ছোট ছবিগুলো দর্শক পাওয়ার সুযোগ পায়।
মনোজের দাবি, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের উচিত একটি ‘মিনিমাম স্ক্রিন গ্যারান্টি’ নীতি আনা, যাতে বলিউডের বড় ডিস্ট্রিবিউটররা ছোট ছবির শো জোরপূর্বক বন্ধ বা পরিবর্তন করতে না পারে।
চিন্ময় মান্ডলেকরের পরিচালনায় ‘গভর্নর’ ছবিটি ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড়কে ভিত্তি করে তৈরি। ১৯৯০ সালে ভারত যখন চরম দেউলিয়া হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন আরবিআই গভর্নর এস. ভেঙ্কিটারমানন যেভাবে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের সাথে কূটনীতি করে দেশকে রক্ষা করেছিলেন, মনোজ সেই চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন।
তবে ট্র্যাজেডি হলো, এই ধরণের শিক্ষণীয় ও বাস্তবধর্মী ছবি দেখতে চাইলেও দর্শকেরা অনেক সময় মাল্টিপ্লেক্সে শো-টাইমিং যেমন সকাল ৮টা বা রাত ১১টার শো না মেলায় তা দেখতে পারেন না।
বড় ব্যানার বা বড় স্টারের ছবি যখন মুক্তি পায়, তখন ডিস্ট্রিবিউটররা হল মালিকদের শর্ত দেয়, যদি আমাদের বড় ছবি চালাতে হয়, তবে অন্য কোনো ছোট ছবি চালানো যাবে না। এই একচেটিয়া নীতি বা মনোপলির কারণে বহু ভালো মেকার এখন থিয়েটার ছেড়ে সরাসরি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে চলে যাচ্ছেন, যা থিয়েটার কালচারের জন্য এক বড় হুমকি।
দক্ষিণী সিনেমা হোক বা বলিউড— তারকা মহলের একটা বড় অংশের মতে, যদি গল্পনির্ভর সিনেমাকে বাঁচাতে হয়, তবে মনোজ বাজপেয়ীর এই ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর দাবিকে শুধু হিন্দি নয়, পুরো ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পেরই সমর্থন করা উচিত।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ




























Recent Comments