ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: যে কোনো বিষয়ে সবারই নিজ মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে বলে মনে করেন আনুশকা শর্মা। সে কারণে বলিউড অভিনেত্রী হোমিওপ্যাথিকে চিকিৎসার প্রতি নিজ আস্থার কথা বলতে এতটুকু দ্বিধা করেননি। তাঁর মতে, হোমিওপ্যাথিকে একটি বৃহত্তর চিকিৎসা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা উচিত।
অভিনেত্রীর কথায়, ‘হোমিওপ্যাথি কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা করে না; বরং এটি মানুষকে ভেতর থেকে নিরাময় করে। সবাই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করাতে পারেন।”
জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর মুখে এমন কথা শোনার পর রীতিমতো হতবাক অনেকে। যার পরিপ্রেক্ষিতে নেটিজেনদের কাছে রীতিমতো কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে একাধিক ব্লকবাস্টার সিনেমার এই অভিনেত্রীকে। সংবাদ প্রতিদিনসহ ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে, সিনেদুনিয়ার লাইমলাইটের আড়ালে আনুশকার পারিবারিক জীবন এখন অনেকটাই থিতু। তবে এবার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রতি প্রেম উজাড় করে কটাক্ষের সম্মুখীন হতে হলো অভিনেত্রীকে।
চিকিৎসাশাস্ত্রে হোমিওপ্যাথি বনাম অ্যালোপ্যাথির বিতর্ক নতুন নয়, দীর্ঘদিনের চলমান এই বিতর্কে এবার আনুশকার পোস্ট যেন নতুন করে ঘৃতাহূতি করল। ঠিক কী ঘটেছে? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় হোমিওপ্যাথিপ্রীতি নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন অভিনেত্রী। যেখানে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক রঞ্জন শঙ্করনকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়।
সেই পোস্টের মাধ্যমেই আনুশকা জানান, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে হোমিওপ্যাথির গুরুত্ব অপরিসীম। পাশাপাশি ওই চিকিৎসকেরও প্রশংসা করে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমার জীবনে হোমিওপ্যাথির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ডা. রঞ্জন শঙ্করন সেই যাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বাস্থ্য এবং সচেতন জীবনযাপন সম্পর্কে তাঁর গভীর অন্তর্দৃষ্টিকে আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি।’ এমন পোস্টের পরই নেট ভুবনে সমালোচনার শিকার হতে হয় বিরাটঘরনিকে। কিন্তু কী এমন ছিল ওই ভিডিওতে, যার জেরে ‘অশিক্ষিত সেলেব’ বলে কটাক্ষ শুনতে হলো আনুশকা শর্মাকে?
ওই ভিডিওটিতে আসলে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় হোমিওপ্যাথির ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা হয় এবং বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে পারস্পরিক প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন চিকিৎসক শঙ্করন। তিনি জানান, হোমিওপ্যাথিকে একটি বৃহত্তর চিকিৎসা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা উচিত। একই সঙ্গে তিনি এও স্বীকার করেন যে, প্রতিটি চিকিৎসা পদ্ধতিরই নিজস্ব কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তিনি বলেন, “হোমিওপ্যাথি কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা করে না; বরং এটি মানুষকে ভেতর থেকে নিরাময় করে। সবাই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করাতে পারেন। কিন্তু এটা কি পুরোপুরি রোগ নিরাময় করতে পারে?
চিকিৎসক জানান, অন্য যে কোনো চিকিৎসা পদ্ধতির মতোই এরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেহেতু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাছে ‘মাল্টিপল স্কলেরোসিস’, অ্যালার্জি বা একজিমার মতো রোগের কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নেই, তাই আমি বলব, আধুনিক চিকিৎসকরাও অনেক সময় এ ধরনের রোগের চিকিৎসার জন্য তাদের রোগীদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার নির্দেশ দেন। আমরা এখন ‘সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা’র যুগে বাস করছি। আমরা কোনো একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে আসিনি। এখন আর বিষয়টি এমন নয় যে, ‘হয় এটি, নয় ওটি’; বরং প্রতিটি চিকিৎসা পদ্ধতিরই শক্তি এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আমাদের সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন।
আনুশকার পোস্ট করা এমন ভিডিও দেখেই রে রে করে উঠেছেন যকৃৎ-রোগ বিশেষজ্ঞ সিরিয়াক অ্যাবি ফিলিপস। যিনি ‘দ্য লিভার ডক’ নামেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত। সেই ভিডিও দেখে আনুশকা তো বটেই, এমনকি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডা. রঞ্জন শঙ্করনকেও বিঁধতে ছাড়েননি তিনি। অ্যাবি ফিলিপসের কথায়, ‘এ তো সাপ্লিমেন্ট বিক্রেতা, হাতুড়ে ডাক্তার!’ পাশাপাশি আনুশকাকে ‘অশিক্ষিত সেলেব’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
তাঁর কথায়, “হোমিওপ্যাথি হলো জল, অ্যালকোহল এবং চিনি দিয়ে তৈরি ‘ওষুধ’। তাই আপনি এমন সব শৌখিন চিনির বড়ির জন্য চড়া দাম গুনছেন, যার মধ্যে আসলে বিন্দুমাত্র ওষুধি গুণ নেই,” তিনি লিখেছেন।
এদিকে দীর্ঘ আট বছর ধরে বলিউডের পর্দা থেকেও দূরে আনুশকা শর্মা। ‘বলিউড বিমুখ’ নায়িকার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান এখন অধ্যাত্মচর্চা। গলায় তুলসীমালা থেকে তাঁর হাতে শোভা পায় আধুনিক রাধাজপ মন্ত্র। মাঝেমধ্যেই স্বামী বিরাট কোহলিকে নিয়ে পৌঁছে যান বৃন্দাবনে প্রেমানন্দজি মহারাজের কাছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ



























Recent Comments