শুক্রবার, ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeজাতীয়জাতীয় কবি নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, নানা আয়োজনে শ্রদ্ধা
spot_img
spot_img

জাতীয় কবি নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, নানা আয়োজনে শ্রদ্ধা

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এই অনন্য প্রতিভা। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদ প্রতিহত করতে শিক্ষার্থীরা নজরুলের গান গাইতে গাইতে রাজপথে নেমেছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কাজী নজরুল ইসলাম এখনো সবার শক্তি ও প্রেরণার উৎস।

তিনি বলেন, সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন নজরুল। কেবল সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধেই নয়, সব ধরনের ভয়ভীতি ও চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে তিনি বিপ্লবের বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন। এ কারণেই তিনি আজও দ্রোহ ও সাম্যের কবি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নজরুলের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।

জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দুই দিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এ আয়োজনের উদ্বোধন হবে। পরদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

‘আমারে দেব না ভুলিতে…’ শীর্ষক এ আয়োজনে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি থাকবে তাঁর গান ও নৃত্য পরিবেশনা।

অন্যদিকে জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নজরুল একাডেমি তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আজ সকাল ৮টায় নজরুল একাডেমির পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। পরে বাদ জোহর কবির সমাধিসংলগ্ন মসজিদে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ২৮ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টায় মগবাজারের বেলালাবাদ কলোনিতে নজরুল একাডেমির কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এর পরদিন ২৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টায় একই মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী এই কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, মানবতার প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং সাম্যের চেতনায় দীপ্ত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া নজরুল পরবর্তী সময়ে সাহিত্য, সংগীত ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রাখেন।

নজরুলের সক্রিয় সৃষ্টিশীল জীবন ছিল মাত্র ২৩ বছরের। তবে এই অল্প সময়েই তিনি বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছেন নতুন মাত্রা। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটকে তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর ছড়িয়ে আছে।

তাঁর লেখায় একদিকে যেমন অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ উঠে এসেছে, অন্যদিকে তেমনি স্থান পেয়েছে প্রেম, মানবতা ও সাম্যের অমর বাণী।

বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে সমধিক পরিচিত। তবে তাঁর সৃষ্টির পরিধি কেবল কবিতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। গান, উপন্যাস, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ ও চলচ্চিত্রেও তিনি রেখেছেন নিজস্ব ও স্বতন্ত্র ছাপ। তিনি ছিলেন সাংবাদিক, গায়ক ও অভিনেতাও। সংগীতের ক্ষেত্রেও তাঁর সৃষ্ট অসংখ্য রাগ-রাগিনী আজও বাংলা সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ হয়ে আছে।

প্রেম, বিদ্রোহ, সাম্য ও জাগরণের বার্তা নিয়ে নজরুল তাঁর কবিতা ও গানের মাধ্যমে শোষণ-বঞ্চনা এবং অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষকে সংগ্রামের প্রেরণা দিয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তাঁর সৃষ্টি বাঙালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করার অন্যতম শক্তিশালী উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখে।

নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে নবজাগরণের নতুন ধারা সৃষ্টি করে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম পথিকৃৎ এই কবির রচনা জাতীয় জীবনে সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়। ওই সময় থেকেই তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশেষ সমাবর্তনে তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন। ১৯৭২ সালের ২৪ মে বাংলাদেশে তাঁর আগমনের তারিখ থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments