বুধবার, ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিটাকার মান ধরে রাখতে ২৫ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
spot_img
spot_img

টাকার মান ধরে রাখতে ২৫ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

বিশ্বের সব সেক্টরেই পড়েছে করোনা ভাইরাসের প্রভাব। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আমদানি কমে গেছে বাংলাদেশেও। সে কারণেই বাজারে বেড়েছে ডলারের সরবরাহ। টাকার মান ধরে রাখতে বাজার থেকে ডলার কিনতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর প্রেক্ষিতে চার দিনে বাজার থেকে ২৫ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বৃহস্পতিবারেই কিনেছে প্রায় আট কোটি ডলার। জানা গেছে, প্রায় তিন বছর পর বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে আবার ডলার কিনলো।

তথ্যমতে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে। এতে আমদানি কমছে দ্রুত গতিতে। আর আমদানি কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে কম। ফলে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা উদ্বৃত্ত ডলার কিনে বাজার স্বাভাবিক রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বর্তমানে মুদ্রাবাজারে টাকা-ডলারের বিনিময় হার ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সা। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এই হার স্থির রয়েছে। আগের মাস জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৮৪ টাকা ৯০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইছে আগামী কয়েক মাস টাকা ও ডলারের এই হার অপরিবর্তিত রাখতে। রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স উৎসাহিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গেছে।

ব্যাংকগুলো সাধারণত রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় সংগ্রহ করে বৈদেশিক মুদ্রা পায়। আমদানি ব্যয় কমার পাশাপাশি গত কয়েক মাস ধরে রপ্তানি আয়েও মন্দা চলছে। তবে রপ্তানি আয় কমার চেয়ে আমদানি ব্যয় কমার হার বেশি। এ ছাড়া রপ্তানি কমার কারণেও আমদানি কমছে। অন্যদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে চাঙ্গাভাব রয়েছে। এতে মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ অনেকটাই বেড়েছে।

প্রতিটি ব্যাংকের ডলার ধারণের একটি সীমা দেওয়া আছে। কোনো কারণে ওই সীমা অতিক্রম করলেই তা বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তার সংবিধিবদ্ধ মূলধনের ২০ শতাংশের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা নিজের কাছে রাখতে পারে না। বৈদেশিক মুদ্রা রাখার এ সীমাকে বলা হয় নেট ওপেন পজিশন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে সাড়ে ৪ শতাংশ। এর মধ্যে একক মাস হিসেবে জানুয়ারিতেই কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে আমদানি ব্যয় আরো কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পণ্য আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলা কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক হাজার ২২৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২০.২০ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছর থেকে রেমিট্যান্সের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার ফলে রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি বাজার থেকে ডলার কিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পর প্রায় প্রতি মাসেই বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করতে হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে ১২৩ কোটি ১০ লাখ ডলার, ২০১৮ সালে ২৩৭ কোটি ডলার এবং ২০১৯ সালে ১৬২ কোটি ১০ লাখ ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডলার বিক্রি করা হয়েছে আট কোটি ৩০ লাখ ডলার। তবে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মার্চ থেকে ডলার বিক্রির বদলে উল্টো কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে গত ৯ মার্চ থেকে ১২ মার্চ চার দিনে কেনা হয়েছে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার। সূত্র: বিবি

ডেইলি শেয়ারবাজার.কম/এম এইচ

 

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments