ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: আলাস্কার উপকূলে একটি অসাধারণ ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যেখানে তারা টুয়েন নামক একটি হাম্পব্যাক তিমির সঙ্গে কথোপকথনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিসের ড. ব্রেন্ডা ম্যাককাওয়ান এই ব্যতিক্রমী সংলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।
জলতলের একটি স্পিকারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা একটি হাম্পব্যাক তিমির “যোগাযোগ” কল বাজিয়েছিলেন। আশ্চর্যজনকভাবে, টুয়েন তাদের নৌকার কাছে এসে সাড়া দেয়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে, তিমিটি নৌকার চারপাশে ঘুরতে থাকে এবং প্রতিটি ডাকে সাড়া দেয়।
ড. ম্যাককাওয়ান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এটি মানুষের সঙ্গে হাম্পব্যাক তিমির ভাষায় প্রথম সফল যোগাযোগের ঘটনা।
আলাস্কা হোয়েল ফাউন্ডেশনের ড. ফ্রেড শার্প বলেন, হাম্পব্যাক তিমি অত্যন্ত বুদ্ধিমান। তারা বুদবুদের জাল তৈরি করে শিকার ধরে এবং জটিল গান ও সামাজিক কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে।
ড. লরেন্স ডয়েল বলেন, ভিনগ্রহী প্রাণীরা যদি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে, তবে এটি তিমির আচরণ থেকে অনুপ্রাণিত হতে পারে।
উল্লেখ, Whale-SETI প্রকল্পটি তিমির যোগাযোগ ব্যাখ্যা করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর লক্ষ্য তিমিদের ভাষার মতো কাঠামো খুঁজে বের করা। এই গবেষণা তিমিদের রক্ষায় সহায়তা করবে এবং সম্ভবত ভিনগ্রহী প্রাণীর সংকেত শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি কেবল সমুদ্রের প্রাণীদের বোঝার জন্য নয়, মহাকাশে বুদ্ধিমান প্রাণীদের সংকেত শনাক্ত করার সম্ভাবনাও জাগাচ্ছে। এই গবেষণা শুধু মহাকাশে নয়, পৃথিবীর বুদ্ধিমান প্রাণীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনেও সাহায্য করবে।
হাম্পব্যাক তিমি ৬০ ফুট লম্বা এবং ৪০ টন ওজনের হতে পারে। তাদের জটিল গান ও সামাজিক আচরণ প্রজনন মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিমির জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও তারা জলবায়ু পরিবর্তন, জাহাজের সংঘর্ষ এবং ফিশিং গিয়ারের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টি.




























Recent Comments