
ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক:
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মাঝেও থেমে নেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা। অপচেস্টার নীলনকশায় ২০০১-০৭ সালে গুলিস্তান এলাকায় জাতীয়তাবাদী হকার্স দলের নেতৃত্বে থাকা চিহিৃত সন্ত্রাসী ও বোমাবাজ কাজী শাহানুর ওরফে বোমা শাহানুর কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, দাউদকান্দি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সাধারন জনতার মাঝে বোমা শাহানুরের আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশের গুঞ্জনে চাঁপা ক্ষোভ ও আতংক বিরাজ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোমা শাহানুর ও তার ডান হাত বলে পরিচিত লাদেন তৈয়ব কুমিল্লা-১ আসনের এমপি মেজর (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া সহ দাউদকান্দি উপজলো পরষিদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন এর সাথে দেখা করে আওয়ামী লীগে যোগদানের চুড়ান্ত সময়সূচী নির্ধারন করে এসেছেন বলে দাউদকান্দি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে খবর ছড়িয়ে পড়েছে।

বোমা শাহানুরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয়তাবাদী হকার্স দল ২০ নং ওয়ার্ড (সাবেক ৫৬ নং ওয়ার্ড) এর নেতা কাজী শাহানুর ওরফে বোমা শাহানুরের নেতৃত্বে ২০০১-০৭ সালে গুলিস্তান এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের জোড়ে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবকে রাষ্ট্রোদ্রোহী কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বোমাবাজ শাহানুর গুলিস্তান এলাকা দখল করে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে ওয়ান টেন জুয়া, অস্ত্রবাজী,অস্ত্রব্যবসা, চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসা ছিনতাই সহ রাষ্ট্রবিরোধী সকল অপকর্মের নেতৃত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে। ওইসময় বোমা শাহীনুর মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব থেকে প্রতি রাতেই লাখ লাখ টাকা নিয়ে ঘরে ফিরতেন। রাতারাতি বোমা শাহীনুর ক্লাবের অবৈধ টাকায় নামে বেনামে গড়ে তোলেন জমি, ফ্ল্যাট, দোকান, গনপরিবহন সহ কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স।

তার সকল অপকর্মের সহযোগী ছিলেন তারই বোন জামাই এ টি এম গোলাম আকবর ওরফে লাদেন তৈয়ব। ওইসময় তার বোনজামাই গোলাম আকবর সন্ত্রাসী কার্যকলাপে বিশেষ পারদর্শিতার কারনে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে লাদেন তৈয়ব নামে ভূষিত হন। বোমা শাহানুর-লাদেন তৈয়বের তত্বাবধানে আটিপাড়া মোহাম্মদপুর কুমিল্লায় অবস্থিত আটিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা মৌ. গোলামুর রহমানের বাড়িটি মিনি ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে গড়ে গড়ে উঠেছিল। ওই মিনি ক্যান্টনমেন্টে ওইসময় ব্যপক অবৈধ অস্ত্রের মজুদ ছিল বলেও জানা গেছে। ওই মিনি ক্যান্টনমেন্টে বসে বোমা শাহীনুর-লাদেন তৈয়ব গং এর নেতৃত্বে গুলিস্তান এলাকা থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত রাষœট্রবিরোধী বিভিন্ন অপকর্ম সংঘটিত হতো। এছাড়াও ৫ জানুয়ারী নির্বাচন পরবর্তি সারাদেশে পেট্রোলবোমার আঘাতে ব্যপক জানমালের ক্ষয়-ক্ষতির পিছনেও ব্যপক ভ’মিকা পালন করে বোমা শাহীনুর-লাদেন তৈয়ব গং।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, গুলিস্তান এলাকা সহ দাউদকান্দিতে ২০০১ সালের পর সংঘটিত চাঞ্চল্যকর সকল বোমা হামলার পিছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল চক্রটি। বিভিন্ন সময় বোমা শাহীনুর-লাদেন তৈয়ব গং গ্রেফতার ও কারাবরন করলেও চাঞ্চল্যকর কোন বোমা হামলায় তাদের বিচার কিংবা তাদের দখলে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়নি রহস্যজনক কারনে। প্রতিবার গ্রেফতার ও কারনাবরনের পর আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের সহায়তায় লাখ লাখ টাকা খরচ করে কারাগার থেকে বেড়িয়ে আসে চক্রটি এবং ধাঁমাচাঁপা দিতে সক্ষম হয় তাদের সমস্ত অপকর্ম। চক্রটিকে গ্রেফতার করে পুলিশ কিংবা র্যাব হেডকোয়ার্টারের তত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে চাঞ্চল্যকর অনেক ঘটনার রহস্য উদঘাটন সহ তাদের ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে সচেতন সমাজ মনে করছে।

বোমা শাহীনুরের আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশের ব্যপারে দাউদকান্দি উপজলো পরষিদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন এর কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ ধরনের কোন ঘটনা ওনার জানা নেই। বোমা শাহীনুরের আওয়ামীলীগে যোগদানের খবর ভিত্তিহীন।
এ ব্যাপারে দাউদকান্দির প্যানেল মেয়র ও কুমিল্লা উত্তর জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি রকিব উদ্দিন এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, শাহানুর কাজী গুলিস্তান এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকলে এলাকার মানুষ তার অতীত অপকর্মের ব্যাপারে অবগত নয়। তাছাড়া আমাদের এমপি সাহেবের ফ্যামিলি অনেক ভাল। ওনারা জেনেশুনে বিএনপির চিহিৃত সন্ত্রাসীদের দলে যোগদান করাবেন না। এমপি সাহেব কিংবা ওনার ফ্যামিলিকে তথ্য গোপন করে বোমা শাহীনুর-লাদেন তৈয়ব গংকে কেই দেখা করিযে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, হতে পারে পিঠ বাঁচাতে শাহীনুর আওয়ামীলীগে যোগদানের চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে তিনি মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি পাঠান মোকলেসের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি পাাঠান মোকলেসের সাথে দেখা করে বোমা শাহানুরের যোগদানের ব্যাপারে জাানতে চাইলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে তিনি অবগত নন। তিনি বলেন, ওনার মত চিহিৃত লোকের আওয়ামীলেিগ যোগদানের প্রশ্নই উঠে না। এ এলাকায় কি আওয়ামীলীগ করার লোকের অভাব পড়েছে যে ওনাকে আওয়ামীলীগে যোগদান করাতে হবে। এলাকার মানুষ হিসেবে বোমা শাহানুরকে কেউ শেল্টার দিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে পাঠান মোকলেস বলেন, কাজী শাহানুরকেকে আমার ইউনিয়নে কোনরুপ শেল্টার দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।
এ ব্যাপারে মালিগাঁও ইউনিয়নের আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়য়র সহ-সভাপতি শাহীন শিকদার বলেন, বোমা শাহানুর-লাদেন তৈয়ব গং এমপি সাহেবের ফ্যামিলির সাথে দেখা করে এসেছে এটা আমার কানেও এসেছে কিন্ত তাদের যোগদানের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। তবে ওই চক্রটির অতীত অপকর্ম গোপন করে কেই তাদের আওয়ামীলীগে যোগদান করানোর চেস্টা করাতে পারে। আমাদের এমপি সাহেব ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে তথ্য পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকেন। আমাদের এমপি সাহেব তাদের অতীত অপকর্মের ব্যাপারে জানতে পারলে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন।
আওয়ামীলীগে যোগদানের ব্যাপারে জানার জন্য কাজী শাহানুরের মোবাইল নং ০১৮১৯-৪১০১৮৩ তে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি মোবাইল না ধরায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
চক্রটির অতীত অপকর্মের উপর ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে শীঘ্রই। জানতে চোখ রাখুন ডেইলি শেয়ারবাজার.কম এর নিউজ পোর্টালে। আপনার মতামত আমাদের ফেজবুক পেজে কমেন্টস করুন।
*****নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক গ্রæপ/পেজে। শেয়ার করে সবাইকে জানতে দিন।
































Recent Comments