ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের কোনো না কোনো ধরনের থাইরয়েড সমস্যা রয়েছে। এদের মধ্যে আড়াই কোটির বেশি মানুষের ক্ষেত্রে এ রোগের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। থাইরয়েড সমস্যায় প্রতিক্রিয়া ধীরে ধীরে হয় বলে ভুক্তভোগীরা চিকিৎসকের কাছে যান না। এ কারণে একটি বড় অংশ শনাক্তের বাইরে থেকে যায়। এদের শনাক্ত করতে প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা জরুরি বলে মনে করেন থাইরয়েড বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, আয়োডিনের অভাব ও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে থাইরয়েড সমস্যা দেখা দেয়। সঠিক সময়ে শনাক্ত ও চিকিৎসায় এটি প্রতিরোধ করা যায়। থাইরয়েডজনিত রোগের বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে শিশু জন্ম নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থাইরয়েড পরীক্ষা জরুরি।
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির (বিইএস) তথ্যমতে, বিশ্বে এ সমস্যায় ভুগছেন ৮০ কোটির বেশি মানুষ। দেশে এমন ভুক্তভোগীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। এদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি মানুষের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এ পরিস্থিতিতে সচেতনতার লক্ষ্যে ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর ২৫ মে বিশ্বব্যাপী থাইরয়েড দিবস পালিত হয়ে আসছে। অন্য দেশের মতো আজ শনিবার বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস-২০২৪। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘থাইরয়েড রোগ, অসংক্রামক রোগ।’
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি ও বারডেম হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. ফারুক পাঠান সমকালকে বলেন, খাদ্য থেকে সেলের মাধ্যমে মানুষের শরীরের শক্তি উৎপন্ন হয়। সেই শক্তি দিয়ে আমরা যাবতীয় কাজ করি। কিন্তু থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে অনেক সময় কম বা বেশি হরমোন বের হয়। এ জন্য শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তবে এসব রোগ যে হরমোন সমস্যার কারণে হচ্ছে, তা অনেক ক্ষেত্রে বোঝা যায় না। এ জন্য রোগীরা শনাক্তের বাইরে থাকেন। ডায়াবেটিস আক্রান্তের প্রায় ৫০ শতাংশের যেমন কোনো উপসর্গ থাকে না, থাইরয়েড সমস্যায় ভোগা মানুষেরও তেমন কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দেয় না। বড় কোনো জটিলতা ছাড়া এসব রোগীর ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তাই শনাক্তের বাইরে থাকা শিশু ঠিকমতো লম্বা হয় না। হরমোন সমস্যার কারণে মা হতে পারেন না নারীরা। এ কারণে শিশু জন্মের পর এবং নারীদের সন্তান নেওয়ার আগে থাইরয়েড পরীক্ষা জরুরি। তাহলে এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ বলেন, থাইরয়েড সমস্যায় হৃদস্পন্দন হ্রাস পায়, ঠান্ডায় স্পর্শকাতরতা বাড়ে; কোষ্ঠকাঠিন্য, মেয়েদের অনিয়মিত মাসিক, চুল পড়া, হার্টের সমস্যা, চোখ ভয়ংকরভাবে বড় হয়ে যাওয়া, ত্বকে শুষ্কতাসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। বন্ধ্যত্বের অন্যতম কারণ থাইরয়েডের সমস্যা। এ হরমোন শরীরে সঠিক পরিমাণে নিঃসরিত না হলে শরীর তারতম্যের কারণে শারীরিক কার্যক্ষমতা কমে যায়। ভ্রূণ অবস্থা থেকে আমৃত্যু থাইরয়েড হরমোনের প্রয়োজন অপরিহার্য। শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে এ হরমোনের প্রভাব রয়েছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক আতিকুর রহমান বলেন, হরমোন নরমাল থেকেও থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যেতে পারে। সাধারণত আয়োডিনের অভাবে গলা ফোলা রোগ হয়ে থাকে, যাকে ঘ্যাগ রোগ বলা হয়। বাংলাদেশে যদিও আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডায়াবেটিস ও হরমোন বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বেশির ভাগ স্কুলগামী শিশু ও গর্ভবতী নারীর আয়োডিনের অভাব রয়েছে। আয়োডিন শরীরে অতি প্রয়োজনীয় থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments