ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ঘুমের সময় অনেকেরই নাক ডাকার সমস্যা দেখা যায়। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির তুলনায় তার আশপাশের মানুষের জন্য বেশি বিরক্তিকর হয়ে ওঠে, কারণ উচ্চ শব্দের কারণে অন্যদের ঘুম ব্যাহত হতে পারে। সাধারণত শ্বাসনালী আংশিকভাবে সংকুচিত বা বাধাগ্রস্ত হলে বাতাস চলাচলের সময় আশপাশের টিস্যু কেঁপে ওঠে, আর সেই কম্পন থেকেই নাক ডাকার শব্দ সৃষ্টি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝেমধ্যে নাক ডাকা স্বাভাবিক হলেও নিয়মিত ও উচ্চস্বরে নাক ডাকা কখনও কখনও গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। পুরুষদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এছাড়া গলা ও ঘাড়ের আশপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমা, স্থূলতা, শ্বাসনালীতে বাধা কিংবা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যাও নাক ডাকার অন্যতম কারণ হতে পারে।
নাক ডাকার সমস্যা কমাতে কিছু সহজ অভ্যাস কাজে আসতে পারে। যেমন:
ঘুমানোর ভঙ্গি নাক ডাকার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। চিৎ হয়ে শুলে জিহ্বা ও গলার নরম টিস্যু শ্বাসনালীর দিকে সরে এসে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই পাশ ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস করলে শ্বাসনালী তুলনামূলক খোলা থাকে এবং নাক ডাকার প্রবণতা কমতে পারে। প্রয়োজন হলে বালিশের সাহায্যে এই ভঙ্গি বজায় রাখা যেতে পারে।
নাক বন্ধ থাকলে বা নাসারন্ধ্রে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা জমে থাকলে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, যা নাক ডাকার ঝুঁকি বাড়ায়। এ ক্ষেত্রে লবণ মেশানো হালকা গরম পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা উপকারী হতে পারে। এছাড়া ঘুমানোর আগে গরম পানিতে গোসল করলে নাকের পথ কিছুটা স্বস্তি পায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ হয়।
অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে গলা ও ঘাড়ের আশপাশে জমে থাকা চর্বি শ্বাসনালী সংকুচিত করতে পারে। ফলে ঘুমের সময় নাক ডাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে অনেক ক্ষেত্রে এ সমস্যা কমানো সম্ভব।
ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত বা ভারী খাবার খেলে নাক ডাকার সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে দুগ্ধজাত খাবার, সয়া দুধ কিংবা অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার অনেকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। ভরা পেটে শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে গলায় প্রদাহ ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে, যা নাক ডাকার ঝুঁকি বাড়ায়।
পিপারমিন্ট, টি ট্রি ও ইউক্যালিপটাস তেলের মতো কিছু প্রাকৃতিক উপাদান নাসারন্ধ্র পরিষ্কার রাখতে সহায়ক হতে পারে। এসব তেলের সুবাস শ্বাসপ্রশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি এনে নাক বন্ধের কারণে সৃষ্ট নাক ডাকার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তবে নাক ডাকা যদি নিয়মিত হয়, খুব জোরে হয় অথবা ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এটি অনেক সময় ঘুমজনিত জটিল রোগ, বিশেষ করে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম





























Recent Comments