ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছে নেপাল। তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধস। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৪০৩ জন, যাদের অধিকাংশই বিদেশি পর্যটক।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া এবং আশপাশের কয়েকটি জেলায় এ দুর্যোগ আঘাত হানে। হঠাৎ করে কী কারণে এত বড় বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মাত্র তিন মিনিট পর, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে নেপালে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়।
তিনি বলেন, ভূমিকম্পের সঙ্গে এই বন্যার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখতে হবে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৬০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রসুয়ায় ৩ জন, নুয়াকোটে ১১ জন, ধাদিংয়ে ১৮ জন, চিতওয়ানে ৩৩ জন, গোর্খায় ১৯ জন, তানাহুঁতে ৭ জন এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, এখনো ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৬১ জন নেপালি। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬টি দেশের নাগরিক রয়েছেন।
পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, ২৮ জন পুলিশ সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২০০ জন নারী এবং ২০৩ জন পুরুষ। পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, ট্যুর অপারেটরদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের বেশির ভাগই ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী রাজু ভাদেল জানান, বুধবার সকালে তার ভগ্নিপতি তাকে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বন্যার পানিতে তাদের পুরো বাড়ি ভেসে গেছে। পরিবারের তিন সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তার ভাই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল পুলিশের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গেছে, নদীর প্রবল স্রোতে একের পর এক বাড়িঘর ভেসে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির একটি ছবিতে কাদামাটির নিচে চাপা পড়া একটি বাড়ির কেবল ওপরের অংশ দেখা গেছে।
এ দুর্যোগে নেপালের বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্গত এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধান ও ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, আকস্মিক এই বন্যায় তিব্বতের গিরং এলাকায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে অন্তত ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল সীমান্তসংলগ্ন তিব্বতের একটি বাণিজ্যকেন্দ্রেও ভূমিধসে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

































Recent Comments