টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদনদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের ক্ষেত। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবরে।

সিরাজগঞ্জ-
সিরাজগঞ্জে ৮৭২ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। এতে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, বন্যায় সিরাজগঞ্জ সদরে ৪৫০ হেক্টর ও কাজীপুরে ৪২২ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, জমিতে রোপা আমন ও মরিচ চাষ করেছিলাম। কিন্তু বন্যার পানি এসে সব ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি নেমে না গেলে ধানসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, সোমবার থেকে জেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি কমলে ফসলের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবুও নিমজ্জিত ফসলের জমি ও কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সরকারি কোনো প্রণোদনা পেলে তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
কুড়িগ্রাম-
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় বন্যায় পানিতে ডুবে ৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষেত পচে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। অবশিষ্ট ফসলের ক্ষেতের অধিকাংশই অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি পঞ্চম দফা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে ৬৫০ হেক্টর জমির রোপা আমন ও ২৮ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। পানি নেমে গেলেও ৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ও ১৫ হেক্টর জমির সবজিখেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। অবশিষ্ট ৬১৫ হেক্টর জমির রোপা আমন খেতের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক।পৌরসভার পূর্ব সুখাতী সেনপাড়ার উদয় সেন জানান, তিনি তার দুই বিঘা জমিতে রোপা আমন লাগিয়েছেন। পানিতে নিমজ্জিত থেকে এর মধ্যে এক বিঘা জমির ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট ও বাকি এক বিঘার জমির ক্ষেত আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্থ ২০০ কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে মাষকলাই দেওয়া হবে। এতে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments