ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: পিঠের ব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। তবে সব ধরনের পিঠের ব্যথার পেছনে মেরুদণ্ডের সমস্যা থাকে না। ভারি কাজের কারণে পেশিতে টান, স্লিপড ডিস্ক, স্নায়ুতে চাপ, আর্থ্রাইটিসসহ নানা কারণে এ ধরনের ব্যথা হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ, হাড় ভেঙে যাওয়া বা গুরুতর কোনো রোগও এর কারণ হতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন পেশিতে টান লেগেছে?
বিশেষজ্ঞের মতে, ভারি কোনো বস্তু তোলা, ব্যায়াম করা, হঠাৎ শরীর মোড়ানো কিংবা দীর্ঘ সময় অস্বস্তিকর অবস্থানে বসে থাকলে পেশিতে টান লাগতে পারে। এ ধরনের ব্যথা সাধারণত নির্দিষ্ট একটি জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে। ব্যথার সঙ্গে পেশিতে টান, চাপ বা ভারি অনুভূতি হতে পারে।
কিছু নির্দিষ্ট নড়াচড়ার সময় ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে এ ব্যথা কমে আসার কথা। বিশ্রাম ও স্বাভাবিক চলাফেরার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে পেশিতে টানজনিত ব্যথা ভালো হয়ে যায়।
মেরুদণ্ড বা স্নায়ুর সমস্যা কীভাবে বুঝবেন?
পিঠের নিচের অংশ থেকে ব্যথা যদি নিতম্ব হয়ে পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর সঙ্গে ঝিনঝিন করা, অবশভাব বা দুর্বলতা দেখা দেয়, তাহলে স্নায়ুতে চাপ বা জ্বালাপোড়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
চিকিৎসকরা বলেন, স্লিপড ডিস্ক থেকেও সায়াটিকার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যথা শুধু কোমর বা পিঠে সীমাবদ্ধ না থেকে পায়ের দিকেও ছড়িয়ে যেতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা থাকা, বারবার একই ধরনের ব্যথা হওয়া কিংবা ব্যথার কারণে হাঁটা ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে প্রতিটি পিঠের ব্যথার ক্ষেত্রে নিয়মিত ইমেজিং পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। গুরুতর কোনো সমস্যা সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়।
পিঠে ব্যথা কি অন্য কোনো রোগের লক্ষণ?
কিছু ক্ষেত্রে পিঠের ব্যথা সংক্রমণ, হাড় ভেঙে যাওয়া, প্রদাহজনিত রোগ কিংবা ক্যানসারের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। তাই কিছু বিশেষ লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয়।
অকারণে ওজন কমে যাওয়া, জ্বর, গুরুতর আঘাতের পর পিঠে ব্যথা, আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া , রাতে বা বিশ্রামের সময় তীব্র ব্যথা এবং নতুন কোনো স্নায়বিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া প্রস্রাব করতে নতুন সমস্যা হওয়া, প্রস্রাব বা পায়খানা ধরে রাখতে না পারা, কুঁচকি বা নিতম্বের আশপাশ হঠাৎ অবশ হয়ে যাওয়া এবং দ্রুত পেশিশক্তি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা জরুরি অবস্থা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
কীভাবে চিকিৎসা করা হয়?
নিউরোসার্জন প্রথমে ব্যথার কারণ ও তীব্রতা নির্ণয়ের চেষ্টা করেন। পিঠে ব্যথা হলেই সরাসরি অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয় না। অধিকাংশ জটিলতাহীন পিঠের ব্যথা সক্রিয় থাকা, দীর্ঘ সময় বিছানায় না শোয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ, ফিজিওথেরাপি, শরীরের ভঙ্গি ও দৈনন্দিন কাজের ধরন পরিবর্তন এবং পেশি শক্তিশালী ও নমনীয় করার ব্যায়ামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
তবে ডিস্কের সমস্যার কারণে গুরুতর স্নায়ু চাপে পড়লে চিকিৎসা নির্ভর করে উপসর্গ ও স্নায়বিক পরীক্ষার ফলের ওপর। দীর্ঘস্থায়ী অসহনীয় ব্যথা বা স্নায়বিক দুর্বলতা থাকলে কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসকেরা রোগীর উপসর্গ ও স্নায়বিক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে এমআরআইসহ বিভিন্ন ইমেজিংয়ের তথ্য মিলিয়ে দেখেন। এর মাধ্যমে ডিস্কের উল্লেখযোগ্য স্ফীতি, স্পাইনাল ক্যানাল সংকুচিত হওয়া, মেরুদণ্ডের অস্থিরতা, হাড় ভাঙা, টিউমার, সংক্রমণ বা স্নায়ুর ওপর চাপ রয়েছে কি না, তা নির্ণয় করা হয়।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments