শুক্রবার, ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeএক্সক্লুসিভবঞ্চিত বিনিয়োগকারীরা: ক্রেডিট ব্যালেন্সের অর্জিত সুদ খাচ্ছে সিকিউরিটিজ হাউজ
spot_img
spot_img

বঞ্চিত বিনিয়োগকারীরা: ক্রেডিট ব্যালেন্সের অর্জিত সুদ খাচ্ছে সিকিউরিটিজ হাউজ

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে থাকা ক্রেডিট ব্যালেন্স বা নগদ স্থিতি থেকে অর্জিত সুদ বেশিরভাগ সিকিউরিটিজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক নিজেদের আয় হিসেবে গন্য করে যাচ্ছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। সিকিউরিটিজ আইনে সুষ্পষ্টভাবে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ফলে গ্রাহকগণ তাদের  বিও (বেনেফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবে জমাকৃত অর্থ হতে উদ্ভুত আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা অন্যায্য এবং অনৈতিক বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ধরা যাক, একজন বিনিয়োগকারী শেয়ার ব্যবসা করার জন্য ৫০ লাখ টাকা তার হাউজে জমা দিয়েছে। সে বিনিয়োগকারী একবারে সব টাকার শেয়ার না কিনে ধাপে ধাপে শেয়ার কেনার পরিকল্পনা করেন। দেখা যায়, ৩০ লাখ টাকার শেয়ার কেনার পর ২০ লাখ টাকা তার হিসেবে রয়ে গেল। যেহেতু এসব অর্থ হাউজের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকে তাই ব্যাংকও সেই অ্যাকাউন্টে রাখা অর্থের ওপর সুদ প্রদান করে। হাউজগুলো প্রাপ্ত সেই সুদের টাকা নিজস্ব আয় হিসেবে গন্য করে। অথচ তা পাওয়ার অধিকার একমাত্র সেই বিনিয়োগকারীর। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা তাদের বি. ও. হিসাবের নগদ স্থিতির পর অর্জিত সুদ আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন যাবত ব্রোকারেজ হাউজগুলো গ্রাহকদের বি. ও. হিসাবে জমাকৃত নগদ স্থিতির উপর প্রাপ্ত সুদ নিজেদের আয় হিসেবে গন্য করার ফলে বিনিয়োগকারীরা বাড়তি আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা অন্যায্য এবং অনৈতিক।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইতিমধ্যেই “সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০” জারি করেছে যা প্রজ্ঞাপন নং বিএসইসি/সিএমআরআরসিডি/২০০১-৮০/১৮/এ্যডমিন/১১৫ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ এবং গেজেট আকারে তারিখ,ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১ইং প্রকাশিত হয়েছে। নির্দেশনা বলীর সার সংক্ষেপ নিম্নে তুলে ধরা হলো:-

ক) নিবন্ধিত স্টক ব্রোকারগন একীভূত গ্রাহকগণের হিসাব (Consolidated Customers’ Account) হতে প্রাপ্ত নীট সুদ আয় (ব্যাংক চার্জ কর্তন করার পর, যদি থাকে) নিজেদের আয় হিসেবে গন্য করতে পারবে না। উক্ত আয় আনুপাতিকহারে গ্রাহকদের হিসাবে বন্টন করতে হবে এবং অবন্টিত সুদ আয়, যদি কিছু থাকে, তা কমিশনের বিনিয়োগ সুরক্ষা ফান্ডে (Investors Protection Fund) প্রত্যেক আর্থিক বছরের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্থানান্তর করতে হবে মর্মে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

খ) একীভূত গ্রাহকগণের হিসাব হতে প্রাপ্ত নীট সুদ আয় বন্টনের গননা পদ্ধতি :

১. একীভূত গ্রাহকগনের হিসাব (Consolidated Customers’ Account) হতে প্রাপ্ত মোট বার্ষিক সুদ আয় থেকে বার্ষিক হিসাব রক্ষনাবেক্ষণ খরচ, ব্যাংকচার্জ ও অন্যান্য চার্জ কর্তন করার পর অবশিষ্ট অর্থ একটি ব্রোকারের বন্টনযোগ্য সুদ আয় হিসেবে গন্য হবে।
২. একীভূত গ্রাহকগনের হিসাব হতে প্রাপ্ত সুদ আয়ের হার নিম্নলিখিত সূত্র মোতাবেক গননা করতে হবে:
[বন্টনযোগ্য বার্ষিক নীট সুদ আয় / ওই বছরে একীভূত গ্রাহকগনের ভরযুক্ত গড় ক্রেডিট স্থিতি (দিন শেষ ভিত্তিতে)] X ১০০
৩. গ্রাহকের প্রাপ্য সুদ প্রত্যেক আর্থিক বছর শেষ হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে প্রদান করতে হবে।

গ) একীভূত গ্রাহকগনের হিসাব হতে প্রাপ্ত সুদ আয় পাওয়ার জন্য নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা :
নিম্নোক্ত মানদন্ড পূরণ সাপেক্ষে প্রত্যেক গ্রাহক উক্ত সুদ আয় পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন :-

১. যদি, গ্রাহকের হিসাবে উক্ত বছরের মধ্যে কমপক্ষে ০১ মাসের নূন্যতম ক্রেডিট স্থিতি ১.০০ লক্ষ টাকা থাকে। অথবা;

২. যদি, ওই আর্থিক বছরে গ্রাহকের হিসাবে অর্জিত সুদ আয় কমপক্ষে ৫০০ টাকা হয়।

উপরোক্ত নির্দেশনাগুলো তাৎক্ষনিকভাবে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও অদ্যাবধি তা কার্যকর হয়নি, যা অত্যন্ত হতাশার বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাই বিনিয়োগকারী তথা পুঁজিবাজার উন্নয়নের স্বার্থে  বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অতি সত্ত্বর উক্ত নির্দেশনাসমূহের বাস্তবিক প্রয়োগ করা উচিত বলে মনে করেন তারা।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মাজ./নি

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments