সোমবার, ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeখেলা-ধুলাবাংলাদেশ-নেপাল ফাইনাল মহারণ আজ
spot_img
spot_img

বাংলাদেশ-নেপাল ফাইনাল মহারণ আজ

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: নেপালের কাঠমান্ডুতে দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ভরদুপুরে সোনালি রঙের ট্রফি এনে রাখা হলো। বাংলাদেশ এবং নেপাল সংবাদ সম্মেলন শেষ করে মাঠে গিয়ে ট্রফি নিয়ে ফটোসেশন করল। ট্রফির পাশে দাঁড়িয়ে দুই দলের কোচ এবং অধিনায়ক ক্যামেরার সামনে পোজ দিলেন। আজ সন্ধ্যায় নির্ধারণ হবে এই ট্রফি কার হাতে উঠবে। বাংলাদেশ না নেপাল। খেলা নারী সাফের ফাইনাল শুরু হবে সন্ধ্যা পৌনে ৭টায়। ৯০ মিনিট খেলা হবে। নিষ্পত্তি না হলে সরাসরি টাইব্রেকিংয়ে যাবে ফাইনাল।

ফাইনাল হবে শিহরণ জাগানিয়া। সাফ নারী ফাইনালের উত্তেজনায় কাঁপছে কাঠমান্ডু। নেপাল বাংলাদেশ ফাইনালের মহারণ দেখতে নেপালিরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। ঢাকায় থেকে গিয়েছেন বাফুফের নির্বাচিত সদস্য ইকবাল হোসেন, গোলাম গাউস, রহমতগঞ্জে টিপু সুলতান। নারী সাফের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, গত ফাইনালেও নেপাল ছিল প্রতিপক্ষ। জিতেছিল ৩-১ গোলে। এবারও সেই একই প্রতিপক্ষ। সেই একই ভেন্যুতে খেলা।

এবার নিয়ে টানা তিনবার এই দশরথের মাঠে ফাইনাল খেলছে নেপাল। প্রথমবার ভারতের কাছে হেরেছিল। দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের কাছে এবং আজ তৃতীয় বার কী ঘটে, দেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশ ও নেপালের ফুটবল অনুরাগীরা। নেপালের দুঃখ ২০১০ সালে প্রথম সাফ থেকে এ পর্যন্ত ৫ বার ফাইনাল খেলেও তারা ট্রফি জয় করতে পারেনি। নেপালের বিপক্ষে ফাইনালে চারবার আধিপত্য দেখিয়েছে ভারত। একবার বাংলাদেশ। নেপালের ফুটবল দর্শক প্রার্থনা করছে ট্রফি এবার চাই চাই।

আর বাংলাদেশ মুখিয়ে আছেন ট্রফি নিয়ে আগামীকাল ঘরে ফিরবে তারা। এই অভিযান সফল করা কঠিন। নেপাল সব সময় তার ঘরের মাঠে ভয়ংকর হয়ে ওঠে। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকে গোল শোধ করে টাইব্রেকিংয়ে ভারতকে হারানোর ম্যাচটা যারা দেখেছেন তারা বুঝবেন। ঘটনাবহুল সেমিফাইনাল এতটাই উত্তেজনা ছড়িয়েছিল যে, স্টেডিয়ামে খেলা চলাকালীনই পায়ে পায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয়েছিল। তার ওপর স্টেডিয়াম ভরা নেপালি সমর্থক তো আছেনই। দশরথের গ্যালারি থেকে মাঠের দূরত্ব হাতের নাগালে। নেপালের খেলা হলে বাঁধভাঙা দর্শক হাজির হয়। নিজেদের ফুটবলারদের সমর্থন দিতে নেপালিরা স্রোতের মতো ছুটে আসেন।

ভারত-নেপাল ম্যাচটা মাঠে সব দেখেছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। এসব দেখে রক্ষণভাগের আফিদা খন্দকার জানিয়েছেন নেপালি দর্শকদের নিজেদের দর্শক মনে করে খেলবেন তারা। গত ফাইনালে ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন ছিলেন। এবার তিনি নেই। সেই জায়গায় আফিদা খন্দকার দাঁড়াবেন। তাকে সামাল দিতে হবে নেপালের সাবিত্রী ভান্ডারিকে। ফ্রান্সে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার, দুর্ধর্ষ ফুটবলার এই সাবিত্রী। তার গতি আর স্কিলের কাছে ভারত নাকানিচুবানি খেয়েছে। সাবিত্রী, রেখা পাউডেল এবং প্রীতি, এই তিন জনকে রাখা কঠিন।

তবে রেখা পাউডেল সেমিফাইনালে লালকার্ড পাওয়ায় আজ তিনি না থাকলেও আক্রমণভাগ দুর্বল বলা যাবে না। তার প্রমাণ পিছিয়ে থাকা নেপাল, প্রীতির ডিফেন্স চেরা পাস থেকে সাবিত্রী দর্শনী গোল করেছিলেন ভারতীয় জালে। তারা দুজন বুঝতেই দেননি রেখা নেই। ১০ জনের নেপাল হারিয়েছে ভারতকে। এটাই তাদের আত্মবিশ্বাস। ফাইনালে নেপালকে কীভাবে মোকাবেলা করবেন তা নিয়ে সব পরিকল্পনাও সাজিয়ে ফেলেছেন কোচ পিটার বাটলার। গোলপোষ্টে সাফের সেরা রূপনা চাকমা আত্মবিশ্বাসী।

রক্ষণে মাসুরা পারভীন, শিউলী আজীম, নীলা, সিনিয়র সামসুন নাহার, আফিদা, মাঝমাঠ থেকে মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা, জুনিয়র সামসুন নাহার, ঋতুপর্না চাকমা, তহুরা খাতুন, স্বপনা রানী, সানজিদা আক্তার, কৃষ্ণা রাণী, সাবিনা খাতুনদের বাংলাদেশ আক্রমণ হয়ে উঠতে পারেন এক সুতোয় গাঁথা মালা। সেটা ভারতের বিপক্ষে প্রমাণ করেছেন তারা। কীভাবে সাবিনাদের একাদশ গড়বেন সে পরিকল্পনা ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার তার নিজের মধ্যে রেখেছেন। আজ দুপুরে হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় জানিয়ে দেবেন একাদশে কারা খেলবেন। একাদশে কে থাকলেন আর কে থাকলেন না, সেটা দলের কোনো ফুটবলারের মধ্যে প্রভাব ফেলছে না। সবাই নিজ নিজ সেরা খেলাটা উপহার দিতে চান।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments