ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: গর্ভকালীন উচ্চ ঝুঁকিতে (হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সি) ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী অনন্যা রহমান। আর্থিক কারণে এই অবস্থায়ও কাজ করে যেতে হয়েছিল। অন্যদিকে চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থের সংকুলান করতে পারছিলেন না তিনি। সেই পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ডাক্তার জানালেন আমার তিনটি টিউমার বড় হচ্ছে, ডায়াবেটিস খুব বেশি, থাইরয়েড, ইউরিন ইনফেকশনসহ নানা সমস্যায় ভুগতে হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসার খরচ মেটানো ছিল খুব কঠিন। কখনও কখনও ইনজেকশন দিতে পারিনি টাকার জন্য। একেকটা ইনজেকশনের দাম হাজার টাকা। আর্থিক সংকট, কাজের চাপ– সব কিছুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। একটি হাসপাতালে ৫০ শতাংশ ছাড় পাওয়ার পরও হিমশিম খেতে হচ্ছিল।

শুধু অনন্যাই নন, গর্ভকালীন উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা অনেক নারীই আর্থিক সংকট মোকাবিলা করে সঠিক চিকিৎসা করাতে পারেন না। মানসিক সংকটে ভুগতে হয় তাদের। এ পরিস্থিতি অন্তঃসত্ত্বা নারীর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরাও। এ অবস্থার মধ্যে আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য– ‘হাসপাতালে সন্তান প্রসব করান, মা ও নবজাতকের জীবন বাঁচান।’
জন্মগত হার্টের সমস্যার কারণে প্রথম সন্তানকে হারানোর পর আতিকার দ্বিতীয় গর্ভাবস্থা জটিলতায় ভরা। তিনি গর্ভাবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এমন উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন, যার ফলে প্ল্যাসেন্টালের অপ্রতুলতা দেখা দেয়। যা তার অনাগত শিশুর জীবন বিপন্ন করে তোলে। গর্ভাবস্থার উচ্চ ঝুঁকির জন্য তখন ইনসুলিন ইনজেকশন গ্রহণসহ ব্যয়বহুল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিল আতিকার। এর পরও তিনি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার মুখে পড়েন, যা তাঁকে মানসিকভাবে অসুস্থ ও শয্যাশায়ী করে তোলে। আতিকা কন্যাশিশু জন্ম দেন; কিন্তু হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকির কারণে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর উচ্চ ঝুঁকির বিষয়টি প্রসূতির জন্য ক্রমেই সাধারণ বিষয় হয়ে উঠছে, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অনন্যা ও আতিকার মতো অনেকের জীবনেই রয়েছে এমন বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রে মা-ভ্রূণ উভয়েরই ঝুঁকি বাড়ায়। এর নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্তচাপ) ও ডায়াবেটিস; আগে থেকে বিদ্যমান হেপাটিক, রেনাল এবং কার্ডিয়াক সমস্যা; বেশি বয়সে অথবা কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ, একাধিক গর্ভাবস্থা এবং ধূমপানের অভ্যাস। এ ছাড়া গর্ভাবস্থা সম্পর্কিত জটিলতা যেমন– প্রিক্ল্যাম্পসিয়া এবং গর্ভকালীন ডায়াবেটিসও গর্ভকালীন ঝুঁকি বাড়ায়।
এই হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সির সম্ভাব্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে– উচ্চ রক্তচাপ, খিঁচুনি, অকাল জন্ম, সিজারিয়ান সেকশনের প্রয়োজনীয়তা, রক্তপাতের সমস্যা, কম বা বেশি ওজনের শিশু জন্ম, জন্মগত ত্রুটি এবং শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। এ অবস্থায় মা-শিশুর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। সামান্য অবহেলায় মৃত্যু ঘটতে পারে।
হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রে আরেকটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ হলো আর্থিক সংগতি। নানা পরীক্ষা, ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ, ওষুধ এবং অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তির খরচ বহন অনেকের জন্যই কষ্টকর হতে পারে। আতিকা তাঁর চিকিৎসা করাতে ৪ লাখ টাকার বেশি খরচ করেছেন। অথচ সরকারি হাসপাতালে তাঁর প্রথম গর্ভকালীন চিকিৎসায় খরচ হয়েছিল মাত্র ৩ হাজার ৪০০ টাকা।
আনোয়ার মডার্ন খান হাসপাতালের ডিপার্টমেন্ট অব গাইনি এবং ওবিএস বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সেহেরীন ফারহাদ সিদ্দিকা বলেন, প্রতি ১০ জনে ২ থেকে ৩ জন অন্তঃসত্ত্বা মা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকেন। তারা ডায়াবেটিস ও এনিমিয়া রোগে ভোগেন।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
























Recent Comments