ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ‘আসন্ন সাইবার আক্রমণের মুখে সক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের প্রবৃদ্ধি এখন অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি এবং উচ্চ-প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রযুক্তি যেমন ডেটা সেন্টার, স্মার্ট মিটার এবং সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা একুইজিশনের (এসসিএডিএ) সঙ্গে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ক এক সেমিনারে বক্তারা এই বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেন।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) থেকে সাইবার নিরাপত্তা প্রস্তুতির ওপর সাম্প্রতিক একটি গবেষণার ফল প্রকাশ করতে হপলন লিমিটেড এই সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হপলন লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহসান হাবীব। তিনি সাইবার নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান এবং এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
হপলন লিমিটেডের চিফ টেকনিক্যাল অফিসার শরিফুল ইসলাম এই গবেষণার ফল এবং সুপারিশ উপস্থাপন করেন, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে এমন বিষয়গুলোর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং নিরাপত্তায় যে ফাঁক ফোকরগুলো রয়েছে তা বিশ্লেষণ করে দেখান এবং বিআরইবি-এর সাইবার সিকিউরিটি ক্ষমতার তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার অডিট পেশ করেন।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চিফ টেকনিক্যাল অফিসার এবং সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ মুশফিকুর রহমান সাইবার থ্রেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার ঝুঁকি, বিপদ এবং নজরদারির অভাব কীভাবে সাইবার আক্রমণের দিকে নিয়ে যেতে পারে তা বোঝাতে বিভিন্ন দেশের বিদ্যুৎ খাতে সাইবার হামলার সাম্প্রতিক উদাহরণ তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মোস্তফা আকবর, সম্ভাব্য সাইবার হুমকির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক সমাধান বা বিকাশের সময় নিরাপত্তা নির্ভর একটি সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের ওপর জোর দেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণের জন্য একটি শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা প্রতিরক্ষার ভূমিকা তুলে ধরেন। এছাড়া, আলমাস কবির জোর দিয়ে বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়ার সময় স্থানীয় দক্ষ জনশক্তিকে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন সাইবার নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, একইসঙ্গে চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কেও কথা বলেন। তিনি উদাহরণস্বরূপ বলেন, পাওয়ার ডিভিশন তার ১৮টি সংস্থার সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয় করতে গিয়ে বিশাল খরচের সম্মুখীন হচ্ছে। বিআরইবির সদস্য (অর্থ) দীপঙ্কর বিশ্বাস তথ্য নির্ভর সেমিনার আয়োজনের জন্য হপলন লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান এবং বিআরইবির সাইবার নিরাপত্তাকে উন্নত করার জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বিআরইবির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রউফ মিয়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিআরইবির-এর জন্য সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সমাধানে নিরলস কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments