ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশের ব্যাংকিং খাতে নিয়োগ ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন বা বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নিয়োগ, স্থায়ীকরণ, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা, কর্মীদের আচরণবিধি, স্বার্থের সংঘাত এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির মতো বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রতিটি ব্যাংককে যুগোপযোগী, সমন্বিত এবং কার্যকর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা তৈরি করে বাস্তবায়ন করতে হবে।
নতুন বা হালনাগাদ নীতিমালায় স্থায়ী ও অস্থায়ী নিয়োগ, শিক্ষানবিশকাল, চাকরিতে স্থায়ীকরণ, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, বেতন-ভাতা, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি ও পদাবনমন, পদায়ন ও বদলির নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শীর্ষ নির্বাহী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য উত্তরাধিকার পরিকল্পনাও রাখতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া চাকরির অবসান, পদত্যাগ, অবসর, পুনর্নিয়োগ, ছুটি, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দাপ্তরিক গোপনীয়তা, হুইসেলব্লোয়ার ব্যবস্থা এবং কর্মীদের অভিযোগ ও অসন্তোষ নিরসনের কার্যকর পদ্ধতি নীতিমালায় যুক্ত করতে হবে। কর্মস্থলে হয়রানি প্রতিরোধ এবং স্বার্থের সংঘাত মোকাবিলার বিষয়েও সুস্পষ্ট বিধান রাখার নির্দেশ রয়েছে।
ব্যাংকের এন্ট্রি পর্যায়ের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা অস্বচ্ছতা যাতে না থাকে, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলার অনুযায়ী, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট, চাকরির ওয়েবসাইট বা প্ল্যাটফর্ম এবং অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে।
এন্ট্রি পর্যায়ের প্রার্থী বাছাইয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন অ্যাসেসমেন্ট নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সবচেয়ে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী নির্বাচনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শুধু নতুনদের নিয়োগ নয়, এন্ট্রি পর্যায়ের বাইরে উচ্চতর পদে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তার সর্বশেষ অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়োগের এক বছরের মধ্যে যাচাই করতে হবে।
অন্যদিকে সার্কুলার জারির আগে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের কাজও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তার শিক্ষাগত সনদ জাল প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে জাল সনদের তথ্য করপোরেট মেমোরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিএমএমএস) সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ব্যাংকিং খাতে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা বাড়ানো, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও স্বার্থের সংঘাত কমানো। বিশেষ করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে পরীক্ষা, সনদ যাচাই এবং কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন—পুরো প্রক্রিয়াকে আরও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments