নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি’র খেলাপি ঋণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের ব্যাংক খাত এমনিতেই ভালো অবস্থায় নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক শরিয়াহ্ ভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্প্রতি সেগুলোকে একীভূত করেছে। নাম দেওয়া হয়েছে সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে ব্র্যাক ব্যাংকের ঋণ বেড়ে যাওয়াকে অশনি সংকেত বলছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের ব্যাংক খাত অস্তিত্ব সংকটে পড়েছিল। সেখান থেকে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংক খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। বর্তমান বিএনপি সরকারও ব্যাংক খাতকে যথেষ্ট অগ্রাধিকার দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে যে-কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া যথেষ্ট বিব্রতকর এবং আমানতকারীদের জন্য হতাশার।
তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর,২০২৫) সমন্বিতভাবে ব্র্যাক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ হয়েছে দুই হাজার ৫২২ কোটি ৭২ লাখ ৮২ হাজার ৮৬৬ টাকা। আর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিতভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৭৬১ কোটি ৫১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮৯ টাকা। মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭৬১ কোটি ২১ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৭ টাকা বা ৪৩ শতাংশ।

এদিকে সহযোগী কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে অর্থ তছরুপ করেছে ব্র্যাক ব্যাংক, এমনই অভিযোগ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
জানা গেছে, সহযোগী কোম্পানি ব্র্যাক আইটি সার্ভিসেস লিমিটেডে বিনিয়োগ করে কোনো সুফলতো পাচ্ছেই না উপরন্তু লোকসান করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। অথচ সহযোগি কোম্পানিতে যে অর্থ বিনিয়োগ করেছে ব্র্যাক ব্যাংক তা মূলত আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের অর্থ।
তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরের প্রথম নয় মাসে ব্র্যাক আইটি সার্ভিসেস লিমিটেডে ব্র্যাক ব্যাংকের লোকসান হয়েছে ৪৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩১১ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে লোকসান হয়েছিল ৮০ লাখ ৮৮ হাজার ১০১ টাকা।

অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে সহযোগী কোম্পানিতে লোকসান করে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক, যা মোটেও ব্যাংকটির আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখকর নয় বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
(ব্র্যাক ব্যাংকের অনিয়ম নিয়ে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশ করা হলো প্রথম পর্ব। খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় পর্ব।)
এদিকে ব্র্যাক ব্যাংকের ইন্টারেস্ট ইনকামেও বেহাল দশা পরিলক্ষিত হয়েছে। কমেছে ইন্টারেস্ট ইনকাম। তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরের প্রথম নয় মাসে ব্র্যাক ব্যাংকের নিট ইন্টারেস্ট ইনকাম হয়েছে এক হাজার ১৬৬ কোটি ৮ লাখ ৫৬ হাজার ১৪৮ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে যা ছিল এক হাজার ২৫৮ কোটি ৪৮ লাখ ৮২ হাজার ৪৭২ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে নিট ইন্টারেস্ট ইনকাম কমেছে ৯২ কোটি ৪০ লাখ ২৬ হাজার ৩২৪ টাকা।

সম্প্রতি ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার নিয়ে গ্যাম্বিলিং হয়েছে বলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, শেয়ার গ্যাম্বিলিং করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কারসাজিকারকরা। আর সর্বশান্ত হয়েছেন আমাদের মতো সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এই শেয়ার গ্যাম্বিলিংয়ের সাথে ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দায়ি থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এসব ব্যাপারে জানতে ব্র্যাক ব্যাংকের ডেপুটি হেড অব কমিউনিকেশন আব্দুর রহিমকে তার হোয়াটস্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলে তিনি কোনো প্রশ্নের পাঠাননি। তবে কোম্পানি সচিব মাহবুবুর রহমান যোগাযোগ করবেন বলে ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে তিনি জানান। কিন্তু পরবর্তীতে মাহবুবুর রহমান যোগাযোগ করেননি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, ব্র্যাক ব্যাংক আমাদের নজরে রয়েছে। ব্যাংকের খেলাপি ঋণসহ সামগ্রিক বিষয় আমাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ দেখভাল করছে। কোথাও কোনো অনিয়ম দেখলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
উল্লেখ্য, ব্র্যাক ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৯৯০ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যেখানে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের (উদ্যক্তা/পরিচালক ব্যতিত) মোট মালিকানা রয়েছে ৫৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ
























Recent Comments