
ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: মো. আলমাস হোসেন তুহিন (গ্রাহক আইডি-৪৬০৯৮, বিও নং:১২০১৯৫০০৩৯৬১১৮২২) নামে একজন বিনিয়োগকারীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড। যার অভিযোগ গতকাল ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) দাখিল করেছে ভুক্তভোগি ওই বিনিয়োগকারী। এদিকে বিনিয়োগকারীর ওই অভিযোগের খবর পত্র-পত্রিকায় ছড়িয়ে পড়লে ইবিএল সিকিউরিটিজের টনক নড়ে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আজ ২৫ আগস্ট বিনিয়োগকারী মো. আলমাস হোসেন তুহিনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে যার জিডি নং-১৭২৫।
বিএসইসিতে ভুক্তভোগি বিনিয়োগকারীর দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইবিএল সিকিউরিটিজ উদ্দেশ্যমূলকভাবে শেয়ার মার্কেট ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের নীলকশা বাস্তবায়ন করার লক্ষে প্রাহকের মোবাইলে মিথ্যা তথ্য পাঠাচ্ছে। মিথ্যা তথ্য পাঠিয়ে পেনিক সৃষ্টির ফলে তিনদিনে তার প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তিনি।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, আমার গ্রাহক আইডি নং- ৪৬০৯৮। গত ১৭ আগস্ট এই একাউন্টে থাকা শেয়ারের বাজার মূল্য ছিলো ৪২ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এই সপ্তাহের শুরুতে অর্থাৎ ২১ আগস্ট হতে ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড পরিকল্পিতভাবে পর্যাক্রমে গ্রাহকদের মোবাইলে “Lock in Information of the SME Bord Companies” শিরোনামে ১০টি কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য পাঠায়। পরেরদিন এই এসএমএস আমার মোবাইলেও পাঠায়। যা মিথ্যা। উদেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা তথ্যের কারণে পেনিক হয়ে স্কুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ায় শেয়ারের দর পতন ঘটতে থাকে এবং গত তিন কর্মদিবসে বর্ণিত একাউন্টে শেয়ারের বাজার মূল্য ৩৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা দাঁড়ায়। অর্থাৎ ৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। সাথে মানবিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি যা অপূরণীয় ক্ষতি।
অভিযোগে বলা হয়, উক্ত ১০ টি কোম্পানির মধ্যে একটি কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, KBSEED-এর প্রকৃত শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি। ডিরেক্টর হোল্ডিং ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ইনস্টিটিউট হোল্ডিং ১১ দশমিক ১৩ শতাংশ।
অভিযোগপত্রে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এই দুই ভাগ মিলে শেয়ার সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি ৮৩ লাখ ৯৯ হাজার। তাহলে কীভাবে এক কোটি ৮৪ লাখ শেয়ার লকইন শেয়ার আছে? আর ডিরেক্টরদের এক সাথে সব শেয়ার সেল করার সুযোগ নাই। কী কারণে ডিরেক্টরদের শেয়ারগুলো অর্থাৎ কোম্পানির সকল শেয়ার কথিত তারিখে বিক্রয়যোগ্য দেখানো হয়েছে? ডিরেক্টরদের সকল শেয়ার একসাথে বিক্রির সুযোগ কি বিএসইসি দিয়েছে?
এতে বলা হয়, এভাবে প্রতিটি কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় অসৎ উদেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য সংবলিত বার্তা পাঠিয়ে বর্ণিত অপপ্রচারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পেনিক সৃষ্টি করে সেল প্রেসার বাড়িয়ে দরপতন ঘটিয়ে শেয়ার মার্কেট ধ্বংসস্তুপে নিয়ে কম দামে শেয়ার ক্রয়ের ষড়যন্ত্র করেছে ইবিএল। যা সিকিউরিটিজ আইনের পরিপস্থি। এভাবে বিনিযোগকারীদের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি করা হয়েছে, যার দায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের উপর বর্তায়। ৩০ লক্ষ বিনিয়োগকারীর নিরাপত্তা বিধানের জন্য এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসইসি চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেন অভিযোগকারী।
এদিকে ভুক্তভোগি ওই বিনিয়োগকারীর অভিযোগের বিষয়ে ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমের পক্ষ থেকে ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ছায়েদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই বিনিয়োগকারীর অভিযোগ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। আমাদের ইমেজকে নষ্ট করার জন্য এই অভিযোগ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মতিঝিল থানায় জিডিও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, মতিঝিল থানায় করা জিডিতে বলা হয়েছে, ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড এর সাবসিডিয়ারী কোম্পানি এবং একটি স্বনামধন্য ব্রোকারেজ হাউজ। এর গ্রাহক মো. আলমাস হোসেন তুহিন (গ্রাহক আইডি # ৪৬০৯৮ ও বিও # ১২০১৯৫০০৩৯৬১১৮২২) গত ২৪ আগস্ট বিএসইসি চেয়ারম্যানের বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
ওই অভিযোগে তিনি কিছু মিথ্যা, বানোয়াট ও ভুল তথ্য এবং ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি শুধু এরমধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। উক্ত চিঠির কপি উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড এর ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করেছেন এবং আরো অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জিডিতে বলা হয়েছে, এ ধরণের অপপ্রচার পুঁজিবাজার এবং বিনিয়োগকারী সকলের জন্যই ক্ষতিকর। এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গা। তাই এমন অপপ্রচার রোধে মতিঝিল থানা কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।




এ ব্যাপারে অভিযোগকারী বিনিয়োগকারী মো. আলমাস হোসেন তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে জানান, এখানে কোন মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। অভিযোগপত্রটি তদন্ত করলেই এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/নি.


































Recent Comments