ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রপ্তানিমুখী বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডের অব্যবহৃত আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) তহবিল ব্যবহারে জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এক মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
কোম্পানিটি গত ৪ জুন বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে আদালতের জারি করা রুল নিসির বিষয়টি অবহিত করে। রুলটি জারি করা হয়েছে রিট পিটিশন নং-২৮৭২/২০২৬-এর প্রেক্ষিতে।
রিং শাইনের দাবি, শেয়ারহোল্ডারদের প্রায় সর্বসম্মত অনুমোদন পাওয়ার পরও তারা অবশিষ্ট আইপিও তহবিল ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটি (বেপজা)-এর পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্লট হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে কোম্পানিটি।
কোম্পানির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ২৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) উপস্থিত শেয়ারহোল্ডারদের ৯৯.৯৯৪ শতাংশ ভোটে একটি বিশেষ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ওই প্রস্তাবের মাধ্যমে অব্যবহৃত আইপিও তহবিল ব্যবহারের সময়সীমা আরও এক বছর বাড়ানো এবং সুদসহ প্রায় ৩৬ লাখ ডলারের অবশিষ্ট তহবিল নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়।
রিং শাইন জানিয়েছে, এজিএমের কার্যবিবরণী, ই-ভোটিং রিপোর্ট এবং মূল্যসংবেদনশীল তথ্যসহ প্রয়োজনীয় সব নথি বিএসইসিতে জমা দেওয়া হলেও কমিশন তহবিল ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। পরবর্তীতে একাধিক আবেদন করা হলেও কোনো ইতিবাচক সমাধান মেলেনি। ফলে ব্র্যাক ব্যাংকে সংরক্ষিত আইপিও তহবিলের হিসাব এখনও স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।
সব প্রশাসনিক পথ অনুসরণের পর গত ১১ মে সংবিধানের ১০২(২) অনুচ্ছেদের আওতায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করে কোম্পানিটি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রুল নিসি জারির অর্থ হলো আদালত বিষয়টিকে বিচারিক পর্যালোচনার উপযুক্ত বলে মনে করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
রিং শাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ পিয়াল গণমাধ্যমকে জানান, কোম্পানিটি বিএসইসির সব বিধি-বিধান ও করপোরেট গভর্ন্যান্সের শর্ত পূরণ করেই সংশোধিত তহবিল ব্যবহারের পরিকল্পনা শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করেছিল।
তার ভাষ্য, প্রায় ৩৩ লাখ ডলারের অব্যবহৃত আইপিও তহবিল দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে, অথচ বেপজার কাছে বকেয়া অর্থের ওপর বছরে ২৪ শতাংশ হারে সারচার্জ যোগ হচ্ছে। বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় বেপজা ইতোমধ্যে কোম্পানির বেশ কয়েকটি শিল্প প্লটের ইজারা বাতিল করেছে।
কোম্পানির দাবি, ঢাকা ইপিজেডে অবস্থিত ২৩১-২৩৬ ও ১৫৭-১৬৩ নম্বর শিল্প প্লটের ইজারা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি প্লটের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বাতিল নোটিশ জারি হয়েছে। এসব প্লট হারালে কোম্পানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জমি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা উৎপাদন কার্যক্রম, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, রিং শাইন টেক্সটাইলস ২০১৯ সালে আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। ওই অর্থ ব্যবসা সম্প্রসারণ, যন্ত্রপাতি ক্রয়, ঋণ পরিশোধ এবং কার্যকরী মূলধনে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরিবর্তিত ব্যবসায়িক বাস্তবতা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে অবশিষ্ট তহবিলের ব্যবহার পরিকল্পনা সংশোধনকে কেন্দ্র করে কোম্পানি ও বিএসইসির মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ




























Recent Comments