ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সমুদ্রে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে যৌথভাবে আগ্রহ দেখিয়েছে ডেনমার্কের দুটি এবং বাংলাদেশের একটি কোম্পানি। সমুদ্রতীর থেকে দূরবর্তী এলাকায় বঙ্গোপসাগরের মধ্যে বায়ুকল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি প্রকল্প প্রস্তাব গত মাসে জমা দিয়েছে তিন কোম্পানি নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামটি। প্রাথমিকভাবে দৈনিক ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রস্তাবটিতে। এর জন্য ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার (বর্তমান মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ১৪ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করা হবে।

কনসোর্টিয়ামে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ডেনমার্কের কোপেনহেগেন ইনফ্রাস্টাকচার পার্টনারস (সিআইপি) ও কোপেনহেগেন অফশোর পার্টনারস (সিওপি) এবং বাংলাদেশের সামিট গ্রুপ। চলতি জুলাই মাসে প্রকল্প প্রস্তাব বিষয়ে প্রস্তাবক কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে।
গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সামিট করপোরেশন জানায়, বৈশ্বিক বায়ুশক্তি খাতে অগ্রগামী দেশ ডেনমার্কের এই বিনিয়োগ প্রস্তাব এবং তাদের অব্যাহত সহযোগিতার মূল চালিকাশক্তি বাংলাদেশকে সবুজ রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। এই অফশোর উইন্ড প্রকল্পটি হবে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও ‘নীল অর্থনীতি’ উন্নয়নের জন্য একটি অনন্য সুযোগ। বিনিয়োগ প্রস্তাবটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেওয়া হয়েছে, যখন বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা জাতীয়ভাবে একটি ব্যয়বহুল সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটিই হবে বাংলাদেশে প্রথম সমুদ্রে বায়ুকল নির্মাণ প্রকল্প। প্রস্তাবিত বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জীবনকাল প্রাথমিকভাকে ৩০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশে এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত বা বাস্তবায়নাধীন বড় আকারের সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বেশির ভাগই নদী বা সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় নির্মিত হয়েছে বা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সমুদ্রের তীর থেকে দুই-চার কিলোমিটার গভীরে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপায় খুঁজছে সরকার। দেশে জমির স্বল্পতার কারণে এই পথে হাঁটা শুরু হয়েছে। তবে পরিবেশ, মাছের বংশবিস্তার-চলাচল-আহরণ এবং জাহাজ চলাচলে যেন ক্ষতি না হয়, তা বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের বায়ুকল স্থাপন করা হবে। এছাড়া সমুদ্রের তলদেশ টারবাইন স্থাপনে উপযোগী কি না এবং কেন্দ্রের কাছাকাছি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ-সম্প্রসারণের উপযোগিতাও বিবেচনা করা হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
























Recent Comments