ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: হতে পারত স্বপ্নের শুরু। দুই মিনিটে ‘ওয়ান টু ওয়ানে’ শেখ মোরসালিন অবিশ্বাস্য মিস না করলে ফুটবলের গল্পে যোগ হতো নতুন উপাখ্যান। ফুটবল মাঠের লড়াকু যোদ্ধারা বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরেভা স্টেডিয়ামে নতুন আলোয় আলোকিত হতেন। গ্রুপ পর্বে প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা রাকিব হোসেন-বিশ্বনাথ ঘোষরা শনিবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে শক্তিশালী কুয়েতের বিপক্ষেও ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। হারার আগে না হারার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামা জামাল ভূঁইয়ারা গতকালও দেখিয়েছেন ফুটবলশৈলী।

গোলপোস্টের নিচে দাঁড়ানো আনিসুর রহমান জিকোর বীরত্বে ম্যাচ গড়িয়েছে ১২০ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু ১০৭ মিনিটে তারিক কাজীদের মনোযোগ ঘাটতিতে কুয়েত পেয়ে যায় বহুল কাঙ্ক্ষিত গোল। যে গোলে থেমে গেছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা; ভেঙেছে ঈসা ফয়সাল-ইব্রাহিমদের হৃদয়। ২০০৯ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে সেমিফাইনালে ওঠা কোটি বাঙালিরা দেখছিলেন ২০০৩-এর পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন। উপভোগ্য ফুটবল খেলা রাকিবরা সেই পথেই হাঁটছিলেন; কিন্তু শেষ চারে গিয়ে আর পেরে ওঠেননি। কুয়েতের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার দল।
অতীতে কখনোই কুয়েতের সঙ্গে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু ৩৭ বছর পর দু’দলের লড়াইয়ে অন্য বাংলাদেশকে দেখেছে সবাই। র্যাঙ্কিংয়ে ৫১ ধাপ এগিয়ে থাকা কুয়েতের বিপক্ষে যে লড়াকু ফুটবল খেলেছেন বিশ্বনাথরা, তা বাংলাদেশের ফুটবলে গত ১৫ বছরেও দেখা যায়নি। পুরো ম্যাচেই বাংলাদেশ খেলেছে সাহসী ফুটবল।
দারুণ দক্ষতায় রক্ষণ সামলিয়েছেন তারিক-তপুরা। গোলপোস্টের নিচে জিকো হয়ে যান চীনের প্রাচীর, বিশেষ করে কুয়েতের হাই প্রেসিং ফুটবল ভালোভাবেই সামলিয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। লং পাসে খেলা কুয়েতের ফুটবলাররা বারবার বাংলাদেশের রক্ষণকে পরীক্ষায় ফেললেও গোল পাচ্ছিলেন না; বরং কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে বেশ কয়েকবার সাফের অতিথি দলের ডিফেন্স লাইন এলোমেলো করে দিয়েছেন মোরসালিন-রাকিবরা। ওই মিসের পরও মোরসালিন কয়েকবারই বল বানিয়ে দিয়েছেন রাকিবকে। বসুন্ধরা কিংসের এই ফরোয়ার্ড কয়েকবারই পেয়েছিলেন গোলের সুযোগ। ৬১ মিনিটে মোরসালিন-রাকিবের রসায়নে বাংলাদেশ পেয়েছিল গোলের দারুণ সুযোগ। ভুটান ম্যাচে যে কোণ থেকে গোল করেছিলেন রাকিব, এদিন তার চেয়ে আরও সহজ কোণ থেকে তার নেওয়া শট ক্রসবারে লাগলে হতাশা নেমে আসে বাংলাদেশ শিবিরে।
বাংলাদেশের সাহসী ফুটবলে ডাগআউটে চিন্তিত ছিলেন কুয়েত কোচ রুই বেন্তো। গোল না পাওয়ায় ৬২ মিনিটের মধ্যে পাঁচ পরিবর্তনের সবকটিই করেন কুয়েত কোচ। অথচ তখনও একটি পরিবর্তনও করেননি বাংলাদেশ কোচ ক্যাবরেরা। ৬০ মিনিটের পর ফুটবলাররা ক্লান্ত হন বলে হয়তো ভেবেছেন, শেষের দিকে পরিবর্তন আনবেন। সেটা এনেছেনও। কিন্তু প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক বাংলাদেশকে দেখা যায়নি। মনে হয়েছে, ঈসা-ফয়সালরা ক্লান্ত। সেই সুযোগে একের পর এক আক্রমণ সামলাতে থাকে কুয়েত। দ্বিতীয়ার্ধে বলতে গেলে কুয়েতের সঙ্গে একাই লড়েছেন গোলরক্ষক জিকো। কখনও লাফিয়ে, আবার কখনও বা ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে রাখেন বসুন্ধরা কিংসের এই গোলরক্ষক।
তাঁর বীরত্বে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যে আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, ২০০৩ সালের পর সাফে এই প্রথম অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের লড়াইয়ে নামে বাংলাদেশ। এখানেও জিকোর বীরত্ব। প্রথম ১০ মিনিট অতিমানবীয় কয়েকটি সেভ করেন তিনি। কিন্তু ১০৭ মিনিটে ডিফেন্ডারদের মনোযোগ ঘাটতিতে গোল পেয়ে যায় কুয়েত। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা আবদুল্লাহ আল বোলৌশিকে কড়া পাহারায় রাখতে পারেননি তপু। তাঁর পায়ের ফাঁক দিয়েই শট নেন কুয়েতের এই ডিফেন্ডার। জিকো কিছু বুঝে উঠতে পারার আগেই বল দূরের পোস্ট দিয়ে জড়ায় জালে।
শেষ দিকে মরিয়া হয়ে ওঠে খেলে বাংলাদেশ। কিন্তু মালদ্বীপ ও ভুটান ম্যাচের মতো পারেনি প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.


































Recent Comments