ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: রাতে পর্যাপ্ত সময় ঘুমিয়েও যদি সকালে ঘুম ভাঙার পর শরীরে ক্লান্তি ও অবসাদ থেকে যায়, তবে এর পেছনে কেবল অতিরিক্ত কাজের চাপই নয়, কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও দায়ী হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের শক্তি উৎপাদন ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে কয়েকটি পুষ্টি উপাদান অপরিহার্য। এগুলোর অভাব হলে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন বি
শরীরে খাদ্য থেকে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় ভিটামিন বি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ভিটামিনের ঘাটতি হলে শক্তি উৎপাদন ব্যাহত হয়, ফলে সহজেই অবসাদ ও দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। ভিটামিন বি-এর চাহিদা পূরণে টক দই, দুধ, পনির এবং বিভিন্ন ধরনের বাদাম নিয়মিত খাওয়া উপকারী।
প্রোটিন
পেশির গঠন, মেরামত এবং শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে প্রোটিন অপরিহার্য। শরীরে প্রোটিনের অভাব হলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা, মিষ্টি খাবারের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাওয়া এবং ধীরে ধীরে পেশি দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, দুধ, সয়াবিন, ভাজা ছোলা, অঙ্কুরিত ছোলা ও মুগডাল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ইলেক্ট্রোলাইট
শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে কিংবা সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হলে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি ডাবের পানি, তরমুজ, শসা, অন্যান্য রসালো ফল এবং কলার মতো পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত।
ম্যাগনেশিয়াম
ম্যাগনেশিয়াম পেশির কার্যকারিতা ঠিক রাখা এবং ঘুমের সময় পেশির পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ খনিজের অভাব হলে ঘুমে ব্যাঘাত, পেশিতে টান ধরা এবং সারাদিন ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। মিষ্টি কুমড়ার বীজ, কাঠবাদাম ও কাজুবাদাম ম্যাগনেশিয়ামের ভালো উৎস।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি দীর্ঘদিন ক্লান্তি না কমে, তাহলে শুধু খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন নয়, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ অনেক সময় পুষ্টির ঘাটতির পাশাপাশি অন্য শারীরিক সমস্যাও এর জন্য দায়ী হতে পারে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments