বৃহস্পতিবার, ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeজাতীয়সুজনের জনমত যাচাই: পিআর পদ্ধতির পক্ষে ৭১ শতাংশ
spot_img
spot_img

সুজনের জনমত যাচাই: পিআর পদ্ধতির পক্ষে ৭১ শতাংশ

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: প্রস্তাবিত জাতীয় সনদ চূড়ান্তকরণে জনমত যাচাইয়ের তথ্য উপস্থাপন করেছে নাগরিক সংগঠন ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন’। জরিপে দেখা যায়, উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে আসন বণ্টন চান ৭১ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না—এমন বিধানের পক্ষে ৮৯ শতাংশ মানুষ।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জনমত যাচাইয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়।

সুজনের কেন্দ্রীয় সদস্য জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সদস্য ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। জনমতের ফল উপস্থাপন সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য মো. একরাম হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ৪০টি প্রশ্নে সারা দেশে ১ হাজার ৩৭৩ জনের মতামত এবং ১৫টি নাগরিক সংলাপের মাধ্যমে জরিপটি করে সুজন। যাদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৩৩ জন, নারী ৩৩৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ৫ জন।

সংবাদ সম্মেলনে জনমত যাচাইয়ে উঠে আসা তথ্যের বরাতে বলা হয়, আইনসভা সংস্কারের প্রস্তাবে জাতীয় সংসদ (নিম্নকক্ষ) ও সিনেট (উচ্চকক্ষ) নিয়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার পক্ষে মত দিয়েছেন ৬৯ শতাংশ মানুষ।

একই ব্যক্তি একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, দলীয় প্রধান ও সংসদনেতা হতে পারবেন না— এমন প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হয়েছেন ৮৭ শতাংশ মানুষ।

ঘূর্ণমান পদ্ধতিতে নিম্নকক্ষে নারী আসন সংরক্ষণের পক্ষে ৬৩ শতাংশ ও উচ্চকক্ষে নারীদের জন্য ৩০টি আসন সংরক্ষণের পক্ষে ৬৯ শতাংশ মানুষ একমত।

বিরোধী দল থেকে নিম্নকক্ষে একজন ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন ৮৬ শতাংশ মানুষ। উচ্চকক্ষে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার চান ৮২ শতাংশ মানুষ।

৯২ শতাংশ মানুষ মনে করেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দলের সদস্য হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত।

শাসন পদ্ধতির পরিবর্তনের বিষয়ে জরিপে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের পক্ষে মত দিয়েছেন ৮৭ শতাংশ মানুষ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচকমণ্ডলীর (ইলেক্টরাল কলেজ) পক্ষে মত দিয়েছেন ৮৬ শতাংশ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষে ৮৮ শতাংশ, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধনের পক্ষে ৮৭ শতাংশ এবং রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ‘সাম্য’, ‘মানবিক মর্যাদা’, ‘সামাজিক সুবিচার’, ‘গণতন্ত্র’ এবং ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সম্প্রীতি’-এর পক্ষে ৯০ শতাংশ মানুষ।

জরিপে আরও বলা হয়, মৌলিক অধিকারের পরিধি বৃদ্ধির পক্ষে ৮৮ শতাংশ, মৌলিক অধিকার শর্তহীন করার পক্ষে ৮৪ শতাংশ এবং সকল সাংবিধানিক পদ ও তিন বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগের জন্য একটি সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের পক্ষে ৮০ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন ও প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকার কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতির পক্ষে ৯০ শতাংশ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে ৮৩ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছেন।

নির্বাচনী সংস্কারের অগ্রাধিকার ও রূপরেখার বিষয়ে বলা হয়, নির্বাচনকালে নির্বাহী বিভাগের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের অনুমতি গ্রহণের বিধানের পক্ষে মত ৮৭ শতাংশ মানুষের। স্বাধীন সীমানা নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ চান ৮৪ শতাংশ মানুষ। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রত্যয়ন করে গণবিজ্ঞপ্তি আকার প্রকাশের বিষয়ে ৮৬ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছেন। নির্বাচনী ব্যয় নিরীক্ষণ চায় ৮৮ শতাংশ অংগ্রহণকারী। পূর্ববর্তী নির্বাচনের অনিয়মের তদন্ত চান ৭৯ শতাংশ মানুষ। প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন চান ৮৭ শতাংশ মানুষ। না ভোটের বিধান পুনঃপ্রবর্তন চান ৮৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। এছাড়া জাতীয় ডেটা নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ গঠনের পক্ষে ৮৮ শতাংশ মানুষ।

রাজনৈতিক দলের সংস্কারের বিষয়ে জরিপে বলা হয়, পাঁচ বছর পর পর দলের নিবন্ধন নবায়ন করার পক্ষে ৭৬ শতাংশ মানুষ। দলগুলোর আর্থিক লেনদেনে ব্যাংকিং চ্যানেল ও অডিট হিসাব প্রকাশের পক্ষে ৯১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। গোপন ভোটে নির্বাচিত দলীয় মনোনয়ন প্যানেল নির্বাচিত করে প্রার্থী মনোনয়নের পক্ষে ৮৩ শতাংশ মানুষ। এছাড়া সংবিধান সংশোধনের পক্ষে ৮৫ শতাংশ, দলের লেজুড়বৃত্তিক সংগঠন না থাকা ও বিদেশী শাখা না থাকার পক্ষে ৮০ শতাংশ এবং স্থায়ী স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের পক্ষে ৯০ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছেন।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে জরিপে বলা হয়, বিভাগীয় শহরগুলোতে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের পক্ষে ৮৮ শতাংশ, শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের পক্ষে ৮৪ শতাংশ, স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রবর্তনের পক্ষে ৮৫ শতাংশ, উপজেলা উপজেলা পর্যায়ে আদালত স্থাপনের পক্ষে ৮১ শতাংশ এবং স্থানীয় সরকার কমিশন গঠনের পক্ষে ৯০ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছেন।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments