ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: আপনার শরীরের হাত-পা হঠাৎ হঠাৎ ফুলে যাওয়া মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। এটি কোনোভাবেই অবহেলা করার বিষয় নয়। সাধারণত মাঝেমধ্যেই হাত-পা কিংবা মুখ ফুলে যাওয়ার সমস্যা আপনার দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তুলেছে। এমনটি আগে কখনো দেখা যায়নি। কিন্তু এখন মাঝেমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। অনেকে একে সাধারণ ক্লান্তি বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফল বলে মনে করে অবহেলা করেন। আর শরীরে অতিরিক্ত তরল কিংবা পানি জমে গেলে নাকি এমনটি ঘটে থাকে।
কিন্তু ঠিক তা নয়; এটি একটি জটিল রোগের লক্ষণ। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়— ‘এডিমা’। কারণ যখন আমাদের শরীরের বিভিন্ন কোষ বা টিস্যুর মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় অতিরিক্ত তরল বা পানি জমে যায়, তখনই সেই অংশটি ফুলে ওঠে। যদি এই ফোলা ভাব প্রায়ই দেখা যায় এবং অনেক দিন ধরে থাকে, তবে তা শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো বড় রোগের লক্ষণ হতে পারে।
আর শরীরে ঘনঘন ফোলাভাব দেখা দিলে লবণ খাওয়া সাময়িকভাবে কমিয়ে দেওয়া উচিত। তবে এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একদমই উচিত নয়। তবে নিজেকে পণ্ডিত ভেবে নিজে নিজে কোনো ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এমন সমস্যা নিয়মিত হলে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রক্ত পরীক্ষা, কিডনি ও লিভার ফাংশন টেস্ট এবং ইসিজি বা ইকোকার্ডিওগ্রাম করানো অত্যন্ত জরুরি।
এটি মূলত আপনার শরীরের তিনটি প্রধান অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি কিংবা বিকল হওয়ার পূর্ব লক্ষণ হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সেই তিনটি লক্ষণ কী—
১. কিডনি
কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীর থেকে বাড়তি সোডিয়াম ও পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হতে পারে না। ফলে হাত-পা ও চোখের চারপাশ ফুলে যায়। আর কিডনি হলো আমাদের শরীরের ছাঁকনি। এটি রক্ত থেকে অতিরিক্ত পানি, লবণ ও ক্ষতিকারক বর্জ্যপদার্থ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। কিডনি যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তবে শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও পানি জমতে থাকে। এই বাড়তি তরল হাত ও পায়ে জমে যায়। এ ছাড়া কিডনির সমস্যার কারণে শরীর থেকে জরুরি প্রোটিন বেরিয়ে গেলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের চারপাশ এবং মুখ মারাত্মকভাবে ফুলে উঠতে পারে। অন্যান্য লক্ষণ হতে পারে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা ফেনা হওয়া, খিদে কমে যাওয়া এবং বমি বমি ভাব।
২. হৃৎপিণ্ড বা হার্ট
হার্ট যদি শরীরজুড়ে সঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে না পারে, তবে রক্তনালিতে চাপ বেড়ে তরল পদার্থ জমা হয়ে বিশেষ করে পা ও গোড়ালি ফুলে যায়। আমাদের হার্ট বা হৃদযন্ত্রের মূল কাজ হলো— সারা শরীরে রক্ত পাম্প করা। কিন্তু হার্ট যখন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঠিকমতো রক্ত সঞ্চালন করতে পারে না, তখন রক্ত চলাচলের গতি ধীর হয়ে যায়।
কেন ফোলা ভাব হয়?
কারণ রক্ত ঠিকমতো ফিরে আসতে না পারায় শিরাগুলোর ওপর চাপ বাড়ে। ফলে রক্ত থেকে তরল অংশ বের হয়ে মূলত পায়ের পাতা, গোড়ালি এবং নিচের অংশে জমা হতে শুরু করে। এ ক্ষেত্রে একটু হাঁটলেই হাঁপিয়ে ওঠা, শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং সবসময় বুক ধড়ফড় করার মতো লক্ষণ হতে পারে।
৩. লিভার
লিভার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে (সিরোসিস) শরীরে অ্যালবুমিন নামক প্রোটিন তৈরি কমে যায়। ফলে রক্তনালি থেকে তরল উপাদান লিক হয়ে পেট ও হাত-পায়ে পানি জমতে শুরু করে। আর অতিরিক্ত মদপান, হেপাটাইটিস সংক্রমণ বা ফ্যাটি লিভারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে হতে একসময় তা শক্ত হয়ে যায়, যাকে ‘লিভার সিরোসিস’ বলে।
কেন ফোলা ভাব হয়?
কারণ সুস্থ লিভার ‘অ্যালবুমিন’ নামক একটি বিশেষ প্রোটিন তৈরি করে। এ প্রোটিনটি রক্তনালির ভেতরে তরল ধরে রাখতে সাহায্য করে, যাতে তা বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে। লিভার নষ্ট হলে অ্যালবুমিন তৈরি কমে যায়। ফলে তরল রক্তনালি থেকে চুঁইয়ে চারপাশের টিস্যুতে চলে আসে। এর কারণে পায়ে ফোলা ভাব তো হয়ই, পাশাপাশি পেটের ভেতরে প্রচুর পানি জমে পেট ঢাকের মতো ফুলে ওঠে। জন্ডিস, চরম ক্লান্তি ও লিভারের অংশে ব্যথা হতে পারে।
৪. পায়ের শিরার দুর্বলতা
এ ছাড়া আমাদের পায়ের শিরাগুলোর ভেতরে ছোট ছোট একমুখী ‘ভালভ’ বা দরজা থাকে। এ ভালভগুলোর কাজ হলো— মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পায়ের রক্তকে ওপরের দিকে (হার্ট) ঠেলে পাঠানো।
কেন ফোলা ভাব হয়?
বয়স বাড়ার কারণে বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে এ ভালভগুলো দুর্বল বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তখন রক্ত ওপরের দিকে উঠতে না পেরে পায়েই জমতে শুরু করে। এই জমে থাকা রক্তের চাপে তরল পদার্থ শিরার দেওয়াল ভেদ করে পায়ের মাংসে ছড়িয়ে পড়ে এবং পা ফুলিয়ে দেয়। পায়ে ভারি ভাব, পায়ের শিরাগুলো নীলচে ও আঁকাবাঁকা হয়ে ফুলে উঠতে পারে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম






























Recent Comments