ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য পাঁচ দিনের সময়সীমা দিয়েছে ইরান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে এ অবস্থান জানানো হয়েছে।
ইরানের শর্তগুলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের সময় মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। তেহরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ করা হলে হরমুজ প্রণালিতে আবারও চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে প্রস্তুত রয়েছে ইরান।
এর আগে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করলে এক সপ্তাহের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে ওয়াশিংটনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছিল তেহরান।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং তেহরান যেসব ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করে, সেসব এলাকায় যুদ্ধ বন্ধ করা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে ২৩ সেপ্টেম্বর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় জ্যারেড কুশনারও যুক্ত ছিলেন। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই যোগাযোগে নতুন কোনো শর্ত দেওয়া হয়নি; বরং আগে থেকে জানিয়ে আসা তেহরানের শর্তগুলোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের কাছে পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন ও বাণিজ্যিক নৌপথ। ফলে এই জলপথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা কিংবা সীমিতভাবে চালু থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্যও হরমুজ পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনারের নিরাপদ চলাচলে ইরানের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আগ্রহের কথাও জানিয়েছে।
এ কারণে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি এখন শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্বার্থও সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments