ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে চলমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বিশ্বজুড়ে দ্রুত কমতে শুরু করেছে তেলের মজুত। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো খুবই সীমিত। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রচেষ্টা এখন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত দ্রুত হারে কমছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। উভয় পক্ষই মনে করছে, শেষ পর্যন্ত অপর পক্ষ তাদের দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমনকি যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পার্থক্যও দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করছেন, প্রণালিটি খোলা রয়েছে এবং এর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তবে বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো অত্যন্ত কম।
অন্যদিকে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ইরান ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। সিএনএনের ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করা ভিডিওতে হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপের একটি সৈকতে তেল ভেসে আসতে দেখা গেছে।
দেশ দুটির মাঝে যুদ্ধের অবসান নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের কমান্ডারের এক শীর্ষ উপদেষ্টা বলেছেন, প্রয়োজনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে তেহরান।
মোহাম্মদ রেজা নাকদি পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ইরান তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন করা হতো। তাই নৌপথটি দীর্ঘ সময় অচল থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments