ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ক্ষতির পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউজের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের কারণে যারা সর্বস্বান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিলেন, তাদের জন্য এবার অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৩৩২ বিনিয়োগকারীর সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে পরিশোধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ডিএসই আয়োজিত ‘আইপিএফ তহবিল বিতরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে’ তিনি এ তথ্য জানান। ব্রোকারেজ হাউজ কর্তৃপক্ষের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অর্থ বিতরণের কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে লাভ-ক্ষতি দুটোই হতে পারে। শেয়ারের দাম বাড়া বা কমা বাজারের স্বাভাবিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিষয়। কিন্তু কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়লে তা পুঁজিবাজারের প্রতি তাদের আস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে, কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি। পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজ বিভিন্নভাবে বিনিয়োগকারীদের অর্থ বা শেয়ার নিজেদের হিসাবে নিয়ে নেয়। পরবর্তী সময়ে সেই অর্থ বা শেয়ার বিনিয়োগকারীদের ফেরত দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।
মমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে তাদের হিসাবে মোট ১৭ হাজার ৯৬৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী রয়েছেন। এর মধ্যে এই পর্যায়ে ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীর সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ পাওনা আইপিএফ থেকে পরিশোধ করা হবে।
তবে যেসব বিনিয়োগকারীর পাওনা এ পর্যায়ে পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হবে না, তাদের অর্থও দ্রুত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব অর্থ ফেরত দিতে ডিএসইসহ বাজারসংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ সক্রিয় থাকবে। যত দ্রুত সম্ভব তাদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান ডিএসই চেয়ারম্যান।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে মমিনুল ইসলাম বলেন, তারা কষ্টার্জিত অর্থ অনেক আশা নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু অনিয়মের কারণে তাদের যে ব্যাপক মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি এবং যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তার জন্য তিনি তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশা প্রকাশ করে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বিএসইসি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), ব্রোকারেজ হাউজসহ পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ১৭ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারীর তথ্য সংগ্রহ, তাদের বিনিয়োগের হিসাব এবং চূড়ান্ত ব্যালেন্স নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা সেই কাজ সম্পন্ন করেছে। এখন বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কাজটিও তারা সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড গঠনে ব্রোকারেজ কমিউনিটির অবদানের কথাও তুলে ধরেন মমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইপিএফের অর্থের প্রধান উৎস হলো ব্রোকারদের ট্রেড কমিশন এবং সিসিএ (কাস্টমার কনসোলিডেটেড অ্যাকাউন্ট) হিসাবের সুদের ২৫ শতাংশ। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর এই অবদান ছাড়া ডিএসইর নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না।
শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ধারার যে সূচনা হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডিএসই চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, সবার আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা হলো বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে। এমন একটি পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পিলার হিসেবে ভূমিকা রাখবে। সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে অবশ্যই সফল হওয়া সম্ভব হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments