ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৬ হাজার ৩৯৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৫৫৯ জনের বয়স ১৫ বছরের কম। সে হিসাবে ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্রায় ২২ শতাংশ শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ডেঙ্গু চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে জটিল এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে শিশুদের ঢাকায় আনা হচ্ছে।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছর ১৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের। এর মধ্যে আট শিশু। অর্থাৎ মৃত্যুর ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১৪ ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১০, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৩, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩১, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১০, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৯ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন ভর্তি হয়েছেন। দেশের ৬০ জেলায় ছড়িয়েছে ডেঙ্গু। আগের তুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা কমেছে। কিন্তু ঢাকার বাইরে রোগী বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।
শিশুদের ঝুঁকি বেশি-
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, রাতে এবং দিনে যে কোনো সময় ঘুমালে শিশুকে অবশ্যই মশারির ভেতর রাখতে হবে। অন্যান্য সময় পুরো শরীর কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। সাদা বা কম উজ্জ্বল কাপড়ের প্রতি মশা আকৃষ্ট হয় কম। তাই শিশুদের উজ্জ্বল কাপড় কম পরানো উচিত।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, শিশুর ক্ষেত্রে রক্তচাপ ও তরল ব্যবস্থাপনা খুবই সংবেদনশীল। অনেক চিকিৎসক শিশুর রক্তচাপ মাপায় অভ্যস্ত নন। শিশুর শরীরে তরলের মাত্রা সামান্য কম-বেশি হলেই জটিলতা তৈরি করতে পারে। শিশুরা ডেঙ্গু রোগের লক্ষণগুলো বুঝতে বা বলতে পারে না। শরীরে রক্তের প্লাটিলেট দ্রুত কমতে শুরু করে। হঠাৎ শকে চলে যায়। যদি প্রথম দিকে ডেঙ্গু শনাক্ত করা যায়, তাহলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুর সমস্যা হয় না। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসার আওতায় আসতে দেরি হলে শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তখন অবস্থা খুবই খারাপ থাকে।
বর্ষা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি-
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, থেমে থেমে বৃষ্টি ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই সময়ে বৃষ্টিপাত, বাতাসের আর্দ্রতা এবং উষ্ণতা এডিস মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। আগস্ট মাসে ডেঙ্গু রোগী জুলাইয়ের তুলনায় তিন গুণ বাড়তে পারে। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি হতে পারে ভয়াবহ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments