রহিম সাহেব শেয়ারবাজারে নতুন। কিছুদিন আগে তিনি একটি কোম্পানির ১০০টি শেয়ার কিনেছিলেন, প্রতি শেয়ারের দাম ছিল ১০০ টাকা। কিন্তু আজ সেই শেয়ারের দাম নেমে এসেছে ৮৫ টাকায়। এখন তার ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ১,৫০০ টাকা।
রহিম সাহেব দোটানায়—কী করবেন? • শেয়ার ধরে রাখবেন?
• ক্ষতি মেনে বিক্রি করবেন?
• নাকি আরও কিনে গড় দাম কমাবেন?
এই প্রশ্নই প্রতিটি বিনিয়োগকারীর জীবনে আসে। আর উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমেই বুঝতে হবে—আপনার আগের কেনা দামের কোনো গুরুত্ব নেই বাজারের কাছে। বাজার দেখে না আপনি কত দামে কিনেছিলেন। এটি শুধু আজকের দাম আর কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাই বিচার করে।
বিকল্প ১: ধরে রাখা
অনেকে ভাবে—“আমি ১০০ টাকায় কিনেছি, দাম আবার ১০০ না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি করব না।”
এতে বাড়তি টাকা লাগবে না, আর মানসিকভাবে স্বস্তিও দেবে। কিন্তু ঝুঁকিটা বড়—দাম হয়তো আর কখনো ১০০ টাকায় ফিরবেই না। তখন আপনার টাকা আটকে থাকবে, অন্য ভালো সুযোগে কাজে লাগানো যাবে না।
বিকল্প ২: আরও শেয়ার কেনা (গড় কমানো)
ধরা যাক রহিম সাহেব আবার ১০০টি শেয়ার কিনলেন ৮৫ টাকায়। এখন তার গড় দাম দাঁড়াবে ৯২.৫ টাকা। ফলে ১০০ টাকায় না গিয়েও, ৯২.৫ টাকায় উঠলেই তিনি ব্রেক-ইভেনে চলে আসবেন।
শুনতে আকর্ষণীয় মনে হলেও এখানে বড় ঝুঁকি আছে—দাম আরও নিচে নামলে ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। তাই এই কৌশল কেবল তখনই কাজে লাগবে, যদি কোম্পানির ভবিষ্যৎ খুব শক্তিশালী হয় এবং দাম পড়া সাময়িক হয়।
বিকল্প ৩: ক্ষতি মেনে বিক্রি করা
এটি সবচেয়ে কষ্টের সিদ্ধান্ত, কারণ ক্ষতি বাস্তবে মেনে নিতে হয়। কিন্তু এর একটি বড় সুবিধা আছে—আপনি আপনার মূলধন উদ্ধার করে অন্য কোনো ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারেন, যেখানে লাভের সম্ভাবনা বেশি। এটাই হলো মূলধন রক্ষার শৃঙ্খলাবদ্ধ কৌশল।
তাহলে রহিম সাহেবের কী করা উচিত?
সিদ্ধান্ত নিতে হলে তাকে প্রথমে বের করতে হবে দাম কেন পড়েছে:
• যদি পুরো বাজারই নিচে থাকে, তবে ভয় নেই—সাময়িক চাপ কেটে গেলে দাম ফের উঠতে পারে।
• যদি পুরো শিল্পখাত সমস্যায় পড়ে, তবে ভেবে দেখতে হবে কোম্পানি বাঁচতে পারবে কিনা।
• আর যদি কোম্পানির নিজস্ব সমস্যা হয় (দুর্বল আয়, ঋণ, ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা), তবে ঝুঁকি অনেক বেশি।
এরপর দেখতে হবে—
• কোম্পানির পণ্য বা সেবা কি এখনও প্রতিযোগিতামূলক?
• ব্যবস্থাপনা কি বিশ্বাসযোগ্য?
• আর্থিক অবস্থান কি সুস্থ?
শেষকথা
শেয়ারবাজারে অতীতের দাম নয়, ভবিষ্যতের সম্ভাবনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
• কোম্পানি যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে ধৈর্য ধরুন বা ধাপে ধাপে আরও কিনতে পারেন।
• যদি নিশ্চিত না হন, তবে শুধু ধরে রাখুন, সময় দিন।
• আর যদি কোম্পানির ভবিষ্যৎ খারাপ হয়, তবে ক্ষতি মেনে বিক্রি করাই শ্রেয়।
মনে রাখবেন, শেয়ার জানে না আপনি কত দামে এটি কিনেছিলেন। সিদ্ধান্ত নিন একটাই প্রশ্ন ভেবে—আজকের দামে, এই কোম্পানিকে আবার কিনতে চাইবেন কি না?
লেখক: মো: আনোয়ার হোসেন
























Recent Comments