সোমবার, ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeএক্সক্লুসিভমিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক: ঋণ খেলাপি দুই হাজার কোটি টাকা, ঝুঁকিতে আমানতকারীরা
spot_img
spot_img

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক: ঋণ খেলাপি দুই হাজার কোটি টাকা, ঝুঁকিতে আমানতকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর একের পর এক বেরিয়ে আসছে ব্যাংকগুলোর ঋণ খেলাপিসহ নানা রকম অসঙ্গতির আসল চিত্র। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় দীর্ঘদিন ব্যাংকগুলো তাদের ঋণ খেলাপি ও নানা অসঙ্গতির সঠিক চিত্র প্রকাশ করতে পারেনি। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংক খাত নিয়ে অত্যন্ত সচেতন থাকায় একে একে বেরিয়ে আসছে ব্যাংকগুলোর ঋণ খেলাপির আসল চিত্র। যেসব ব্যাংককে আমানতকারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ভালো বলে জানতেন, সেগুলোর ঋণ খেলাপিও বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে।

জানা গেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) নিজেকে মোটামুটি ভালো ব্যাংক বলে দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। যেকোনো ব্যাংকের ঋণ খেলাপি ৫ শতাংশের উপরে গেলেই সেই ব্যাংক আমানতকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে এমটিবির ঋণ খেলাপির পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৭৪ কোটি ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫০২ টাকা। অর্থাৎ ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এর আগের বছর ঋণ খেলাপির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৭০৬ কোটি ২১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৯ টাকা। অর্থাৎ ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। বছরের ব্যবধানে টাকার অঙ্কে ঋণ খেলাপির পরিমাণ বেড়েছে ৩৬৭ কোটি ৮৩ লাখ এক হাজার ৬০৩ টাকা বা ২২ শতাংশ।

(মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হলো। খুব শিগগিরই দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করা হবে।)

ঋণ খেলাপি এভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিতে আমানতের সুরক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংকটিতে নতুন করে আমানত গচ্ছিত রাখতে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এমনকি ব্যাংকটিতে নতুন করে আমানত না রাখতেও উৎসাহিত করেছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ভিতরে থাকা কিছু অসৎ কর্মকর্তা্-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় নামে-বেনামে দুর্বল, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের আগে-পর এসমস্ত দুর্বল, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মালিকরা বিদেশে অর্থ পাচার করেছে এবং নিজেরা গা ঢাকা দিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দেশ থেকে বিতারিত হলেও তাদের রেখে যাওয়া প্রেতাত্মারা এখনো ব্যাংকটিতে ঘাপটি মেরে বসে আছে।

জানা গেছে, সাধারণত যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে ছোট আকারে লোন বা ঋণ দিলে তা খেলাপি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ থাকে।কিন্তু যদি তাদেরকে বড় আকারে ঋণ দেওয়া হয় তবে তা খেলাপি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। ২০২৪ সালে এমটিবির মোট মূলধন এসে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৩৯ কোটি ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, এমটিবি মোট মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি সিকম গ্রুপকে ঋণ দিয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ৬৫০ কোটি ৪১ লাখ ১৬ হাজার ৬০৮ টাকা, আজি গ্রুপকে ঋণ দিয়েছে ৫১৭ কোটি ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৩ টাকা। আর ইয়ন গ্রুপকে লোন দিয়েছে ৪২২ কোটি ৬৪ লাখ ৬০ হাজার ৪২৯ টাকা। এরকম অসংখ্য গ্রুপকে মোট মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি করে ঋণ দিয়েছে। যার পরিমাণ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৮৬ কোটি ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৪৯১ টাকা। দেশের অর্থনৈতিক দুরাবস্থার মধ্যে বিশাল অঙ্কের বিতরণকৃত এই ঋণ ফেরত আনতে হিমশিম খাচ্ছে এমটিবি কর্তৃপক্ষ।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, ২০২৩ সালে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি ঋণ আদায় করেছে ১৭ কোটি ৯৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮৬ টাকা। আর ২০২৪ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৭০ লাখ ৪৯ হাজার ৪৩০ টাকা। এক্ষেত্রে বছরের ব্যবধানে ঋণ আদায় কমেছে ৭ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৫৫৬ টাকা বা ৪০ শতাংশ।

অর্থাৎ যতই দিন যাচ্ছে গ্রাহকদের মাঝে বিতরণকৃত ঋণ প্রতিষ্ঠানে ফেরত আনার ব্যাপারে সক্ষমতা কমে যাচ্ছে ব্যাংকটির। এই সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ইতিমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

এসব বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সুজন বড়াইয়ের সাথে গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন লিখে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে বলেন এবং তিনি বলেন, আগামী সোমবার (আজ, ২৯ সেপ্টেম্বর) প্রশ্নের উত্তর দেবেন। কিন্তু আজ বেশ কয়েকবার ডেইলি শেয়ারবাজারের এই প্রতিবেদক তাঁর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি উত্তর দেবেন বলেছেন। কিন্তু এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, যে সমস্ত ব্যাংকের ঋণ খেলাপি বেড়েছে, পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে, তা ঠিক করার জন্য সে সমস্ত ব্যাংককে আমরা ৬ মাস পর পর জানিয়ে দিচ্ছি। এমটিবিও এর আওতার বাহিরে নয়। প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৮১ কোটি ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, যার মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের মালিকানা রয়েছে ৩৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। এছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে যথাক্রমে ৩১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং ৩৫ দশমিক ২১ শতাংশ।

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments