নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতে ঋণ খেলাপি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ছোট-বড়-মাঝারি প্রায় সব ব্যাংকের এই ঋণ খেলাপি বৃদ্ধিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না খাত সংশ্লিষ্টরা। এই ঋণ খেলাপি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা নিয়ে রীতিমতো হিসাব কষতে বসেছেন তারা।
জানা গেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়া পিএলসির ঋণ খেলাপি বেড়েছে ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন-ভাতা বেড়েছে ৪৮ শতাংশ। ফলে ব্যাংকটির আমানতকারী নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়লেও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পোয়াবারো।
(ব্যাংক এশিয়ার অনিয়ম নিয়ে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ প্রকাশ করা হলো প্রথম পর্ব। খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় পর্ব।)
মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক এশিয়ার ঋণ খেলাপি বেড়েছে এক হাজার ৩৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আর মোট বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে খেলাপি হয়েছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ, তথ্য বিশ্লেষণে এসব তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে ব্যাংক এশিয়ার ঋণ খেলাপির পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর আগের বছর যা ছিল এক হাজার ৯৫১ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি মোট ঋণ বিতরণ করেছে ২৯ হাজার ৩৭২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

জানা গেছে, কোনো ব্যাংকে সাধারণত ঋণ খেলাপি পাঁচ শতাংশের বেশি হলেই সেই প্রতিষ্ঠানে রাখা আমানত ঝুঁকিতে পড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বর্তমানে ব্যাংক এশিয়ার আমানতকারীরা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। ব্যাংকটিতে থেকে আমানত সঠিক সময়ে ফেরত পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।
কোম্পানি সূত্রে আরও জানা গেছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) বেতন-ভাতা বেড়েছে ৬৪ লাখ ২৫ হাজার ৩০১ টাকা। ২০২৩ সালে বেতন-বোনাস ছিল এক কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। আর গত বছর তা এসে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৯৯ লাখ ৩৫ হাজার ৩০১ টাকা।

এদিকে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির এমডির এতো বেশি বেতন-ভাতা বেড়ে যাওয়ায় রীতিমত বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বছরের ব্যবধানে বেতন-বোনাস ১০ শতাংশ বা তার কিছু বেশি বাড়তে পারে, কিন্তু এক লাফে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক।
এদিকে যতই দিন যাচ্ছে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিতরণকৃত ঋণ পুনরুদ্ধার ততই কমে যাচ্ছে। ফলে ব্যাংকের বর্তমান ম্যানেজমেন্টের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের উদাসীনতার কারণে ঋণ পুনরুদ্ধার কমেছে, যোগ করেন তারা।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ঋণ পুনরুদ্ধার হয়েছে ২২ কোটি ৯৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬২০ টাকা। এর আগের বছর যা ছিল ৩২ কোটি ৬০ লাখ ৫৫ হাজার ১৪১ টাকা। বছরের ব্যবধানে ঋণ পুনরুদ্ধার কমেছে ৯ কোটি ৬৬ লাখ ৯ হাজার ৫২১ টাকা বা ৩০ শতাংশ।

এসব ব্যাপারে জানতে ব্যাংক এশিয়ার কোম্পানি সচিব জাহিদ হাসানের সাথে গত সোমবার (৬ অক্টোবর) যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন লিখে তার হোয়াটসঅ্যাপে দিতে বলেন। তিনি প্রশ্নের উত্তর আজ বুধবার (৮ অক্টোবর) দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরেও প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি। আজ সকালে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ বিভাগের প্রধান প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি দিচ্ছি বলে সময় ক্ষেপন করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, ব্যাংক এশিয়ার ঋণ খেলাপি বেড়েছে। আমরা ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিং (ব্যাংকের সামগ্রিক অবস্থা বোঝানোর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে একটি স্বীকৃত মানদন্ড রয়েছে। এই মানদন্ডকে ক্যামেলস রেটিং বলা হয়) দেখে ব্যবস্থা নেবো। ব্যাংকটিকে আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি।
উল্লেখ্য, ব্যাংক এশিয়ার অনুমোদিত মূলধন এক হাজার ২৮২ কোটি ৪৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যার মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের মালিকানা রয়েছে ৫০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে যথাক্রমে ৩৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
































Recent Comments