নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্তির সাড়ে তিন বছর যেতে না যেতেই বিডি পেইন্টস লিমিটেডের বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অভিযোগ। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সঠিক সময়ে আর্থিক প্রতিবেদন কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশ না করা, ইচ্ছকৃতভাবে ওয়েবসাইট ডিজাবেল (অক্ষম) করে রাখাসহ নানারকম অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে কোম্পানিটি। এছাড়াও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নানা রকম সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তালিকাভুক্ত হলেও তার কিছুই বাস্তবায়ন করছে না ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিটি। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মূলত একটাই চাওয়া ছিল তা হলো-কোম্পানিটি যেন সন্তোষজনক ডিভিডেন্ড (লভ্যাংশ) প্রদান করে। কিন্তু দু্র্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সদ্য বিদায়ী বছরে (৩০ জুন ২০২৫) নামমাত্র ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে বিডি পেইন্টস। এ নিয়েও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিডি পেইন্টস ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ওয়েবসাইটে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না। ফলে কোম্পানিটি প্রকৃত অর্থে কোন অবস্থায় রয়েছে সে-সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা ওয়াকিবহাল না। এক প্রকাশ ধোয়াশার মধ্যে রয়েছেন তারা।
বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে বলেন, শেয়ার প্রতি আয়সহ (ইপিএস) আর্থিক প্রতিবেদন ফুলিয়ে-ফাপিয়ে দেখিয়ে বিডি পেইন্টস ২০২২ সালের মধ্যভাগে তালিকাভুক্ত হয়। প্রকৃত অর্থে কোম্পানিটি তালিকাভুক্তির আগে থেকেই নামমাত্র অপারেশন (কার্যক্রম) পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবসা করে থাকে, যা এখনো বলবৎ রয়েছে। এছাড়াও কোম্পানিটির আয়ও হয় সামান্যই। এসব বিষয় ঢাকতেই আর্থিক প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে না এবং ওয়েবসাইটটিও ঠিকও করে না।
এব্যাপারে বিডি পেইন্টসের কোম্পানি সচিব এস.এম মামুন অর রশীদ ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, আমাদের ওয়েবসাইট আন্ডারকন্সট্রাকশন অবস্থায় রয়েছে। যে-কারণে আমরা আর্থিক প্রতিবেদনও ওয়েবসাইটে দিচ্ছি না।

আপনারা কেন ওয়েবসাইট ঠিক করেন না এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন না প্রশ্ন করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আপনার আর্থিক প্রতিবেদন দরকার হলে অফিসে এসে নিয়ে যান। আর আপনার কিছু বলার থাকলে অফিসে এসে বলেন। তারপর এই প্রতিবেদক তাকে বলেন, আপনি হোয়াটসঅ্যাপে আর্থিক প্রতিবেদনের লিংকটা আমাকে দিন। কিন্তু তিনি পরবর্তীতে লিংকটি এই প্রতিবেদকের হোয়াটসঅ্যাপে দেননি।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, নিয়ম অনুসারে কোম্পানিগুলোকে হিসাব বছর শেষ হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। যদি না করে তবে তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়।
তিনি বলেন, বিডি পেইন্টসের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি এবং কোম্পানিটি কেন দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওয়েবসাইটে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না এবং ওয়েবসাইট ঠিক করছে না? সেসব ব্যাপারে খুব শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যবসায়িকভাবে বর্তমানে খাদের কিনারে চলে গেছে বিডি পেইন্টস। গত পাঁচ বছরের মধ্যে সদ্য বিদায়ী বছরে সর্বনিম্ন প্রফিট বা মুনাফা দেখিয়েছে কোম্পানিটি, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ডিভিডেন্ডে।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, জুন ক্লোজিংয়ের কোম্পানিটি ২০২৪ সালে মুনাফা দেখিয়েছে ৮ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৪০ হাজার টাকা। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা কমেছে ৬ কোটি ৮৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা বা ৭৭ শতাংশ। আর সদ্য বিদায়ী বছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মাত্র এক শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নুরুল হক ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিডি পেইন্টসের পুরো আর্থিক প্রতিবেদন দেখতে পারছি না। কোম্পানিটি কেমন ব্যবসা করছে, কোন অবস্থায় রয়েছে? সেসব ব্যাপারে আমরা এক প্রকার ধোয়াশার মধ্যে রয়েছি। আর ডিভিডেন্ডের কথা কি বলবো? সদ্য বিদায়ী বছরে মাত্র এক শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়ে আমাদের হতাশ করেছে কোম্পানিটি। এসব বিষয়ে দ্রুত কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। পাশাপাশি তাদের ব্যাপারে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, আমরা এখনই বিডি পেইন্টসের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছি। যদি ইচ্ছাকৃতভাবে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করে থাকে এবং ওয়েবসাইট ডিজাবেল করে রাখে তবে এর শাস্তি কোম্পানিটিকে পেতেই হবে।
উল্লেখ্য, বিডি পেইন্টসের পরিশোধিত মূলধন ৬২ কোটি টাকা, যেখানে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা-পরিচালক ব্যতীত) মালিকানা রয়েছে ৬৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ


























Recent Comments