সোমবার, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeএক্সক্লুসিভআফতাব অটোমোবাইলস: ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ ছাড়ালেও লোকসানে ব্যবসা, বিএসইসির আইনকে...
spot_img
spot_img

আফতাব অটোমোবাইলস: ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ ছাড়ালেও লোকসানে ব্যবসা, বিএসইসির আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি (পর্ব-১)

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে কেপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) অবণ্টিত লভ্যাংশ জমা না দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। শুধু কী তাই? বছর বছর লোকসান করে যাওয়া কোম্পানিটি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। তবে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও কোনো সুফলের মুখ দেখতে পারছে না আফতাব অটোমোবাইলস। ফলে স্বাভাবিভাবেই সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে খাত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছে খুব শিগগিরই কোম্পানিটি ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

জানা গেছে, গত দুই বছর (২০২৪ ও ২০২৫) ধরে লোকসান করে যাচ্ছে আফতাব অটোমোবাইলস। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সদ্য বিদায়ী বছরে ব্যাংকটির ব্যাংক ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১০ শতাংশ। বিশাল অঙ্কের ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবে প্রতিষ্ঠানটি তা নিয়ে খাত সংশ্লিষ্ট থেকে শুরু করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা করছেন চুলচেরা বিশ্লেষণ।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, জুন ক্লোজিংয়ের কোম্পানিটির গতবছর (২০২৪) মোট লোন বা ঋণের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৮৯৫ কোটি ৪২ লাখ ৯৫ হাজার ৫৪৩ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে (২০২৫) তা এসে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮০ কোটি ৭৬ লাখ ২০ হাজার ১৬৮ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে লোন বেড়েছে ১৮৫ কোটি ৩৩ লাখ ২৪ হাজার ৬২৫ টাকা।

খাত সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করে বলেন, মুনাফা করতে না পারলেও ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি করে কোম্পানিটি প্রমাণ করেছে তাদের ম্যানেজমেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের ব্যবসা পরিচালনায় যথেষ্ট দক্ষতা ও সততার ঘাটতি রয়েছে।

(আফতাব অটোমোবাইলসের অনিয়ম নিয়ে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশ করা হলো প্রথম পর্ব। খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় পর্ব।)

এদিকে নিরীক্ষক কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) রুলস ভঙ্গের সত্যতা পেয়েছে।

কোম্পানিটির নিরীক্ষক জানিয়েছে, তিন বছরের অধিক সময় ধরে কোম্পানিটির কাছে থাকা অবণ্টিত লভ্যাংশ প্রায় ৯ কোটি টাকা কেপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) জমা দিচ্ছে না। বিএসইসির রুলস অনুসারে, তিন বছর বা তিন বছরের অধিক সময় ধরে কোম্পানির কাছে থাকা অবণ্টিত লভ্যাংশ সিএমএস ফান্ডে জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে আফতাব অটোমোবাইলস বিএসইসির রুলস ভঙ্গ করেছে।

এই অর্থ কোথায় রাখা হয়েছে সে-ব্যাপারেও কোনো দিক নির্দেশনা দেয়নি কোম্পানিটি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বিশাল অঙ্কের এই অর্থ কোম্পানিটি আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

জানা গেছে, কোম্পানিটির ম্যানেজমেন্টে যে দক্ষতা ও সততার যথেষ্ট অভাব রয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা উত্তলনের হিসাবে।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর আফতাব অটোমোবাইলস পণ্য বিক্রির বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিল ১২৮ কোটি ৮৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৭ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ৬৯ হাজার ১৫৬ টাকা। বছরর ব্যবধানে অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ কমেছে ৪২ কোটি ৯৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩২১ টাকা বা ৩৩ শতাংশ।

এসব ব্যাপারে জানতে আফতাব অটোমেবাইলসের সচিব রাহাত মাহমুদ ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মোস্তফা জাহিদ আহমেকে একাধিকবার ফোন করা হলে তারা কোনো সাড়া দেননি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি কাজী মো. নজরুল ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, আফতাব অটোমোবাইলস একটা প্রতারক কোম্পানি। কোম্পানির মালিকপক্ষ কোম্পানিটি থেকে টাকা নিয়ে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যয় করছে। আর বছর বছর লোকসান দেখাচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত কোম্পানিটির ব্যাপারে তদন্ত করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা।

বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, আফতাব অটোমোবাইলসের ব্যাপারে আমরা খোঁজ নিচ্ছে। অনিয়ম কিছু পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সদ্য বিদায়ী বছরে আফতাব অটোমোবাইলসের লোকসান হয়েছে ১৪ কোটি ৪২ লাখ ৫১ হাজার ৪২ টাকা। আর শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে এক দশমিক ৩৭ টাকা।

১০৫ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটিতে ‍উদ্যোক্তা পরিচালকদের (বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারী মালিকানা ব্যতিত) মালিকানা রয়েছে ২৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments