নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেক্সটাইল খাতের সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন-ভাতা বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। শুধু তাই নয়, এন্টারটেইনমেন্ট (আমোদ ফুর্তি) বাবদ খরচও আশঙ্কাজনকহারে বাড়িয়েছে কোম্পানিটি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোম্পানিটি সমালোচনার কবলে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে কোম্পানিটি তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আমোদ ফুর্তিতে ব্যয় বাড়ালেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ডের (লভ্যাংশ) পরিমাণ বৃদ্ধি করেনি। এ নিয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তারা।
তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, গত বছর (৩০ জুন ২০২৪) কোম্পানির নিট প্রফিট বা মুনাফা হয়েছিল ছয় কোটি ৮০ লাখ ৯৮ হাজার ৪০০ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ২২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২০ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে এক কোটি ৪১ লাখ ৯৬ হাজার ৩২০ টাকা বা ২১ শতাংশ।
(সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র অনিয়ম নিয়ে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশ করা হলো প্রথম পর্ব। খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে পরবর্তী পর্ব।)
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, মুনাফা বাড়লেও কোম্পানির প্রাণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ডের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়নি। অর্থাৎ গত বছরের ন্যায় সদ্য বিদায়ী বছরেও ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে সিমটেক্স। মুনাফা বৃদ্ধির ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য খুব সহজেই ডিভিডেন্ডের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারতো কোম্পানিটি, এমনটাই মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ডিভিডেন্ডের পরিমাণ বৃদ্ধি না করলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন-ভাতা বাড়িয়েছে ৫৮ শতাংশ। আর এন্টারটেইনমেন্ট (আমোদ ফুর্তি) বাবদ ব্যয় বাড়িয়েছে ৫১ শতাংশ।
কোম্পানিটির এমন দ্বৈতনীতিতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে খাত সংশ্লিষ্টরা।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন-ভাতা ছিলো ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এক বছরের ব্যবধানে বেতন-ভাতা বেড়েছে ১১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

এছাড়াও কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গত বছর এন্টারটেইনমেন্ট বাবদ খরচ হয়েছে ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২১ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৪১০ টাকা। বছরের ব্যবধানে এন্টারটেইনমেন্ট বাবদ কোম্পানির খরচ বেড়েছে ৫ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা।
জানা গেছে, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ক্যাশ ফ্লো কমেছে ৫৪ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এভাবে ক্যাশ ফ্লো কমতে থাকলে খুব শিগগিরই কোম্পানির তারল্য সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর কোম্পানির ক্যাশ ফ্লোস ফ্রম অপারেটিং এক্টিভিটিজ ছিলো ৩৩ কোটি ৯৫ লাখ ৩৫ হাজার ৯১০ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৫৭ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৬ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ক্যাশ ফ্লো কমেছে ১৮ কোটি ৩৮ লাখ ২০ হাজার ৪৭৪ টাকা।

এদিকে কোম্পানিটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। জানা গেছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কোম্পানিতে মালিকানা কমেছে ৪৪ শতাংশ।
গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ছিলো ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৯.২৬ শতাংশ।

উল্লেখ্য, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের পরিশোধিত মূলধন ৭৯ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যেখানে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) মোট মালিকানা রয়েছে ৬৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
এসব ব্যাপারে জানতে সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ রহমান সাকিব ও কোম্পানি সচিব শেখ বিন আবেদিনের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কোনো প্রশ্নের উত্তর দেন। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তাদের কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও শাকিল রিজভী স্টক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাকিল রিজভী ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশিরভাগ কোম্পানি প্রফিট বেশি হলেও ডিভিডেন্ড বেশি দিতে চায় না। আবার কিছু কোম্পানি রয়েছে যাদের গ্রোথ ভালো। সেই গ্রোথ ধরে রাখার জন্য ডিভিডেন্ড বেশি দিতে চায় না। প্রফিটের অর্থ কোম্পানির গ্রোথে কাজে লাগায়। প্রফিট বাড়লেও সিমটেক্স কেন ডিভিডেন্ড বাড়ায়নি যেজন্য কোম্পানিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যেতে পারে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র আবুল কালাম ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ তার ব্যবস্থপনা পরিচালকের বেতন-ভাতা ও এন্টারটেইনমেন্ট বাবদ খরচ অযাচিত বাড়িয়েছে কিনা তা আমরা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবো।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ


























Recent Comments