ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: মুখগহ্বরের ভেতরের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা কম অধিকাংশ মানুষের। কেবল দাঁত মেজে নিলেই হয় না, আনুষঙ্গিক আরও অনেক ধাপ মেনে চলতে হয়; যাতে মুখ থেকে গন্ধ না বেরোয়, দাঁত ক্ষয়ে না যায় এবং মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। একই সঙ্গে মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে বয়সজনিত অসুখ-বিসুখ। তাই মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত।
কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য অনেকেই ডায়েট করে থাকেন। কেউ কেউ ওজন নিয়ন্ত্রণে মন দেন, কেউ কেউ শরীরচর্চায় নিয়োজিত থাকেন, আবার কেউ কেউ ত্বকচর্চায়। কিন্তু অনেকেই জানেন না, মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যরক্ষা করলেও সামগ্রিকভাবে শরীর ভালো থাকে।
এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, মাত্র ১০ সেকেন্ডে নিজের জিভ পরিষ্কার করে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব। এতে দেহে বয়সের ছাপও কম পড়বে। জিভ পরিষ্কার করা কিন্তু কেতাদুরস্ত ‘অ্যান্টি-এজিং’ উপায় নয়। কেবল বয়স বাড়ার এ প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর হতে পারে এ পন্থায়।
জিভের উপরিভাগের খাঁজে খাঁজে খাবারের কণা, মৃতকোষ এবং ব্যাক্টেরিয়া জমে মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য নষ্ট করে থাকে। এবং এতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। মুখগহ্বর শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে থাকে। তবে নিয়মিত পরিষ্কার না করলে জমে থাকা ব্যাক্টেরিয়া মাড়িতে প্রদাহ তৈরি করতে পারে।
চীনের পেকিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাইফ মেডিসিন নামে একটি জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে এ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত মানবদেহে নানা রকমের অণুজীব বাস করে। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার ত্বক ও মিউকাস পর্দায় থাকে। সেগুলোর মধ্যে অন্ত্রের অণুজীব নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে। ফলে পরিপাকতন্ত্রে পৌঁছানোর জন্য মুখগহ্বরে অনেক অণুজীব বাস করে। খাবারের মাধ্যমে যখন সেগুলো শরীরে প্রবেশ করতে চায়, তখন মুখগহ্বরই প্রতিরোধ করে। ফলে মুখগহ্বরকে পরিষ্কার রাখা দরকার। নয়তো প্রদাহ তৈরি হবে মুখের ভেতর।
অনেক দিন প্রদাহ থাকলে দ্রুত বার্ধক্য চলে আসে। এ ছাড়া নানা বয়সভিত্তিক রোগের অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই প্রতিদিন নিয়মিত জিভ পরিষ্কার করার মাধ্যমে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার স্তর দূর করা প্রয়োজন।
সে জন্য জিভ পরিষ্কার করা প্রয়োজন। আর জিভ পরিষ্কার করলে নানা উপকার পাবেন আপনি। প্রথমত মুখের দুর্গন্ধ দূর হবে। বার্ধক্যজনিত সমস্যা কমে যাবে। মুখের ভেতর ব্যাক্টেরিয়া জমে থাকবে না। দ্বিতীয়ত খাবার স্বাদগ্রহণের ক্ষমতা বেড়ে যাবে। মাড়ি ও দাঁতের স্বাস্থ্যরক্ষা ঠিক থাকবে। এতে প্লাক জমার ঝুঁকি কমে যাবে।
কীভাবে জিভ পরিষ্কার করবেন?
১. দিনে দুবার জিভ পরিষ্কার করতে হবে ব্রাশ করার পর।
২. জিভ পরিষ্কারের স্ক্র্যাপার বা নরম ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে।
৩. জিভের ওপরের খাবারের স্তর পরিষ্কার করতে হবে।
৪. জিভের পেছন থেকে সামনের দিকে নিয়ে আসতে হবে।
৫. বেশি জোরে ঘষবেন না, তাহলে জিভে ক্ষত হয়ে যেতে পারে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম



























Recent Comments