ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফাইন ফুডস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির দায়ে ১০ ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।শেয়ার বাজার
সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে যোগসাজশের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন পদত্যাগের আগে এ সিদ্ধান্ত নেয়।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ফাইন ফুডসের শেয়ার কারসাজির অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, কারসাজির অভিযোগে আম্বিয়া এন্টারপ্রাইজকে ২ লাখ টাকা, মো. শফিকুর রহমানকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মোহাম্মদ শামসুল আলমকে সর্বোচ্চ ৫৭ লাখ টাকা, আরবিম টেকো লিমিটেডকে ৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, বিকাশ চন্দ্র সরকারকে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং মোহাম্মদ আলম মিন্টু শাহকে ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া সুলতানা পারভিনকে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, আমিনা বেগমকে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, দীপিকা সাহাকে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা, মো. মামুনকে ২ লাখ টাকা, মোহাম্মদ লতিফ আব্দুলকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ফারহানা আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
বিএসইসির তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ফাইন ফুডসের শেয়ার নিয়ে কারসাজি করা হয়। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ১৫০ টাকা ৬০ পয়সা। পরে ২৪ ডিসেম্বর সেই দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২১৯ টাকা ৭০ পয়সায়। অর্থাৎ প্রায় দুই মাসে শেয়ারটির দাম ৬৯ টাকা ১০ পয়সা বা ৪৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
এই সময়ের লেনদেন বিশ্লেষণ করে বিএসইসি আম্বিয়া এন্টারপ্রাইজ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বাজার কারসাজির প্রমাণ পায়। পরে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৭(ই)(ভি) ও ১৭(ই)(২) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ফাইন ফুডসের শেয়ার নিয়ে এর আগেও কারসাজির অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৩ সালের মার্চ থেকে জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার কারসাজির প্রমাণ পাওয়ার পর মোহাম্মদ শামসুল আলমকে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আরবিম টেকো লিমিটেডকে ২৩ লাখ টাকা এবং সুলতানা পারভিনকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল বিএসইসি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এ ঘটনায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শেয়ার কারসাজির বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান বাজারে জবাবদিহি বাড়াবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।
২০০২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ফাইন ফুডস। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। মোট ১ কোটি ৩৯ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৮টি শেয়ারের মধ্যে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে।
এ ছাড়া ১৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং বাকি ৬৬ দশমিক ০৯ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানায়।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ




























Recent Comments