বুধবার, ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeকোম্পানি সংবাদদীর্ঘদিন উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ কোম্পানির ডিলিস্টিং চায় ডিএসই
spot_img
spot_img

দীর্ঘদিন উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ কোম্পানির ডিলিস্টিং চায় ডিএসই

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বছরের পর বছর উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ, নিয়মিত লভ্যাংশ না দেওয়া, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যর্থতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা লঙ্ঘন করেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অবস্থায় রয়েছে বহু কোম্পানি। এতে জল্পনাভিত্তিক লেনদেন ও কারসাজির সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এ পরিস্থিতিতে বন্ধ ও অকার্যকর কোম্পানির জন্য বাধ্যতামূলক তালিকাচ্যুতির (ডিলিস্টিং) বিধান চালুর প্রস্তাব করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

এ লক্ষ্যে বিদ্যমান লিস্টিং রেগুলেশন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমান লিস্টিং রেগুলেশন অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি টানা পাঁচ বছর লভ্যাংশ (নগদ বা স্টক) ঘোষণা না করলে, টানা তিন বছর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করলে, স্বেচ্ছায় বা আদালতের আদেশে অবসায়নে গেলে, টানা তিন বছর বাণিজ্যিক উৎপাদন বা কার্যক্রম বন্ধ রাখলে, তালিকাভুক্তি ফি বা অন্য পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে কিংবা সিকিউরিটিজ আইন বা লিস্টিং রেগুলেশন লঙ্ঘন করলে স্টক এক্সচেঞ্জ চাইলে কোম্পানিটিকে তালিকাচ্যুত করতে পারে।

তবে ডিএসইর মতে, বর্তমান বিধানে ডিলিস্টিং বাধ্যতামূলক নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিবেচনার ওপর নির্ভর করে। এর সুযোগে বহু অকার্যকর কোম্পানি বছরের পর বছর মূল বোর্ডে থেকে যাচ্ছে। এসব কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, জল্পনাভিত্তিক লেনদেন এবং বাজার কারসাজির ঘটনাও ঘটছে।

এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে বাধ্যতামূলক তালিকাচ্যুতির বিধান যুক্ত করতে চায় ডিএসই। তবে কোনো কোম্পানিকে সরাসরি ডিলিস্ট করা হবে না। প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে, এরপর শুনানির সুযোগ রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ডিলিস্টিংয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও থাকবে।

সংশোধনী প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেওয়া, ঋণাত্মক নিট সম্পদ (নেগেটিভ নেট অ্যাসেট), ন্যূনতম ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার বা মূলধনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়া, প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা লঙ্ঘনের কারণেও কোনো কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করা যাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ডিলিস্টিংয়ের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কতদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলে এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ডিএসই জানিয়েছে, উৎপাদন বন্ধ হওয়ার কারণও বিবেচনায় নেওয়া হবে। গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকলে এক ধরনের সিদ্ধান্ত হবে। আর স্পন্সর পরিচালক বা পরিচালনা পর্ষদের অনিয়ম কিংবা প্রতারণার কারণে প্রতিষ্ঠান অচল হলে তা ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হবে।

তবে কোম্পানিগুলোর জন্য পুনরুদ্ধারের সুযোগও রাখা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি যদি দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য পুনর্বাসন পরিকল্পনা (রিহ্যাবিলিটেশন প্ল্যান) উপস্থাপন করে এবং স্টক এক্সচেঞ্জের তত্ত্বাবধানে তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে বাধ্যতামূলক ডিলিস্টিং থেকে অব্যাহতি পেতে পারে।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নতুন একটি বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি ডিলিস্ট হলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের শেয়ার স্পন্সর পরিচালকদের বাধ্যতামূলকভাবে কিনে নেওয়ার (বাইব্যাক) ব্যবস্থা রাখা হতে পারে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩৬০। এর মধ্যে নিয়মিত লভ্যাংশ বিতরণ ও বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজনে ব্যর্থ হওয়ায় ১২৫টি কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে, যা মোট তালিকাভুক্ত কোম্পানির প্রায় ৩৫ শতাংশ। এছাড়া সম্পূর্ণ বন্ধ ও অকার্যকর কোম্পানির সংখ্যা ৩৩টি, যা মোট তালিকাভুক্ত কোম্পানির প্রায় ৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে আরও ৪৩টি কোম্পানি।

ডিএসইর প্রস্তাব বিষয়ে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, কমিশন ডিরেগুলেশনের দিকে যেতে চায়, যাতে স্টক এক্সচেঞ্জ স্বাধীনভাবে তার আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। ডিএসইর প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে কমিশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments