ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে আবারও বড় পতন হয়েছে। গত জুন মাসে শেষ হওয়া প্রান্তিকে সোনা ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করেছে। নতুন বছরের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বুধবার (১ জুলাই) মূল্যবান এই ধাতুর দাম আরও কমেছে।
বছরের দ্বিতীয় ভাগে লেনদেনের শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে সোনার বাজার। বুধবার সোনার ফিউচার বা আগাম সরবরাহ মূল্য ১ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে। এর ফলে প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে এসেছে ৩ হাজার ৯৮৯ মার্কিন ডলারে।
একই সঙ্গে কমেছে স্পট গোল্ড বা তাৎক্ষণিক সরবরাহ মূল্য। বুধবার দিনের শুরুতে এর দাম ০ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৭৪ ডলার ৫১ সেন্টে।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। বুধবার রুপার বাজারে বড় ধরনের পতন হয়েছে। রুপার ফিউচার মূল্য ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৪৯ সেন্টে নেমেছে। একই সময়ে স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৮০ সেন্টে।
সোনার বাজারে মন্দাভাব
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। তখন প্রতি আউন্স সোনার দাম পৌঁছেছিল ৫ হাজার ৫৮৬ ডলার ২০ সেন্টে। এরপর থেকেই বাজারে মন্দাভাব শুরু হয়।
বিশ্বজুড়ে সুদের হার বৃদ্ধির আভাস পেয়ে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে সরে অন্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে শুরু করেন। কারণ সোনা থেকে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। ফলে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে সোনার দাম।
১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন
গত ৩০ জুন শেষ হওয়া প্রান্তিকে সোনার দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে। ২০১৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর এটিই সোনার মূল্যে সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সোনার দাম কমেছে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
তবে দাম কমলেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সোনা এখনো নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আমুন্ডি ইনভেস্টমেন্ট ইনস্টিটিউটের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে সোনার গুরুত্ব এখনো অপরিসীম।
সংস্থাটির মধ্য-বার্ষিক বৈশ্বিক বিনিয়োগ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সোনার চাহিদা আবারও বাড়তে পারে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সোনার পরিমাণ বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম





























Recent Comments