ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্যের আলো গায়ে লাগানো, পানি পান করা, হালকা স্ট্রেচিং এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ নাশতাগ্রহণের মতো চারটি অভ্যাস সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবন পেতে আপনাকে সাহায্য করবে। আর সে কারণে সুস্থ থাকতে সকালে ফোন ব্যবহার করার মতো ক্ষতিকর অভ্যাস বর্জন করা উচিত।
সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবনের জন্য হালকা স্ট্রেচিং, মেডিটেশন ও পুষ্টিকর নাশতা খাওয়ার অভ্যাস অত্যন্ত কার্যকরী। প্রতিদিন সকালের প্রথম ১০ মিনিটে সূর্যের আলো, পানি পান, হালকা ব্যায়াম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ নাশতার অভ্যাস আপনার শরীর ওমনের সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সুস্থজীবনের জন্য ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সকালের শুরুটা ঠিকভাবে করলে সারাদিনের কাজের গতি, মানসিক সতেজতা এবং শারীরিক সুস্থতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সূর্যের আলোতে কিছুক্ষণ থাকা আর প্রাতরাশের মতো সহজ অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সহায়ক হতে পারে। তবে মনে রাখা উচিত— সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ অনুসরণের আগে নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে যাদের আগে থেকে কোনো রোগ রয়েছে, তারা খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
সকালের প্রথম কয়েক মিনিটেই লুকিয়ে থাকতে পারে সারাদিনের সুস্থতার চাবিকাঠি। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমরা অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ফোন হাতে নিই, এক কাপ চা কিংবা কফি খাই কিংবা কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই দিনের কাজ শুরু করি। দিনের শুরুটা কীভাবে করছেন, তার প্রভাব পড়তে পারে পরবর্তী ১৬ ঘণ্টার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানও এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
সম্প্রতি আমেরিকান চিকিৎসক ভ্যাসিলি এলিয়োপলোস তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সকালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ঘুম থেকে ওঠার পরের প্রথম ১০ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে শরীর আরও সতেজ থাকতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য নিজেকে ভালোভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব।
ঘুম থেকে ওঠার পরপরই মোবাইল ফোনে চোখ না রেখে কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক সূর্যের আলোতে থাকা ভালো। এতে আপনার শরীরের বডি ক্লক স্বাভাবিক ছন্দে কাজ করতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক চক্র বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া সূর্যের আলো শরীরের কর্টিসল ও মেলাটোনিন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। ফলে সারাদিন সতেজ অনুভব করা এবং রাতে ভালো ঘুম হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
এ ছাড়া রাতভর ঘুমের কারণে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই সকালে উঠে পানি পান করা শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করতে সাহায্য করে।
এ বিষয়ে চিকিৎসক ভ্যাসিলি এলিয়োপলোস বলেছেন, অনেকেই সামান্য লবণ মিশিয়ে পানি পান করার অভ্যাস অনুসরণ করেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে— শরীরে খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করা। যাদের উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা কিংবা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত লবণ খাওয়া উচিত নয়।
তবে সকালের খাবার বাদ দেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু তা মোটেও আপনার শরীরের জন্য ভালো নয়। দিনের প্রথম খাবারে ৩০ গ্রাম প্রোটিন রাখার চেষ্টা করা উচিত। এতে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা উন্নত হতে পারে এবং পেশির শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। আর ডিম, দই, দুধ, পনির, ডালসহ অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সকালের নাশতায় রাখা যেতে পারে। সুষম খাদ্য শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং অযথা ক্ষুধাও কমাতে সাহায্য করে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম





























Recent Comments