মঙ্গলবার, ২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআন্তজার্তিকজ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন পদক্ষেপ, তেল পাইপলাইন সম্প্রসারণ ভাবছে সৌদি
spot_img
spot_img

জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন পদক্ষেপ, তেল পাইপলাইন সম্প্রসারণ ভাবছে সৌদি

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। এর মাধ্যমে দেশটি এবং সম্ভাব্যভাবে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে আরও বেশি পরিমাণ তেল পরিবহন করতে পারবে।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো বিদ্যমান পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করছে।

হরমুজ এড়িয়ে বিকল্প রুট তৈরির উদ্যোগ

১৯৮০-এর দশকের শুরুতে নির্মিত পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি বর্তমানে সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

পাইপলাইনটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিবহনে সক্ষম। আরামকোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পশ্চিম উপকূলের শোধনাগারে সরবরাহ করা হয় এবং প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত হয়।

সক্ষমতা বাড়ানোর আলোচনা

সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাইপলাইনের সক্ষমতা প্রতিদিন আরও ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে সৌদি আরব প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করছে।

তবে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিদ্যমান পাইপলাইন আধুনিকায়ন করা হবে, নাকি নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্ভাব্য পরিকল্পনার মধ্যে পরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য ছোট আকারের আরেকটি পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়ও রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারের মতো দেশগুলোও হরমুজ প্রণালির বিকল্প রুট ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। সংকটের কারণে অঞ্চলটির উৎপাদক দেশগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছিল, যার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে।

কুয়েত, ইরাক ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোও বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। ফলে বিকল্প পরিবহন পথ তৈরির বিষয়টি এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

লন্ডনভিত্তিক হার্ডক্যাসল অ্যাডভাইজরির ব্যবস্থাপনা অংশীদার জায়েদ বেলবাগী বলেন, সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারকে যুক্ত করে নতুন পাইপলাইন করিডোর তৈরির আলোচনা হরমুজ প্রণালির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি কমানোর কৌশলকে তুলে ধরছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাইপলাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে এবং এতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে সৌদি অপরিশোধিত তেলের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও হরমুজ এড়িয়ে তেল পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির আবুধাবি পাইপলাইন বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। নতুন পশ্চিমমুখী পাইপলাইন চালু হলে ফুজাইরাহ বন্দরের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সক্ষমতা আরও বাড়বে।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব কমাতেই উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প তেল পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments