বৃহস্পতিবার, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআজকের সংবাদসূচক ও মূলধনে ইতিহাস গড়েছে দেশের পুঁজিবাজার
spot_img
spot_img

সূচক ও মূলধনে ইতিহাস গড়েছে দেশের পুঁজিবাজার

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বিদায়ী বছরে মহামারি করোনাভাইরাসের মতো দেশের পুঁজিবাজারও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অর্থনীতির প্রায় সব খাত করোনার ছোবলে বিপর্যস্ত হলেও শেয়ারবাজার ছিল চাঙ্গাভাবে। বছরের মাঝামাঝি সময়ে পুঁজিবাজারে সূচক বেড়ে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। একই সঙ্গে বাজার মূলধন এবং লেনদেন বেড়েও নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আগামীতে নতুন রেকর্ড গড়ার পূর্ব পর্যন্ত ২০২১ সাল পুঁজিবাজারে ইতিহাস হয়ে থাকবে। সম্ভাবনাময় এখাতে ভবিষ্যতে আরও নতুন রেকর্ড গড়বে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

২০২০ সালে দেশে করোনা মহামারির যখন আর্বিভাব হয়, তখন পুঁজিবাজারও নাজেহাল অবস্থার মধ্যে পড়ে যায়। সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চোকশ শিক্ষক অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে বিএসইসি পুর্নগঠন করেন। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বাজারের জন্য ইতিবাচক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে থাকে। এরপর করোনাভাইরাসকে জয় করে দেশের শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ায়।

বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে থাকে। যেসব বিনিয়োগকারী আস্থা হারিয়ে চলে গিয়েছিল, তারাও বাজারে ফিরতে শুরু করে। ধীরে ধীরে বাজারে বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করে। যা এক বছর পর ২০২১ সালে লেনদেনে, সূচক, বাজার মূলধনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাতে সব কিছুতে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়। যদিও সেটা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গত এক বছরে বাজারে সূচক বেড়েছে সাড়ে ১৩০০ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাজার আরও নতুন ইতিহাস গড়বে।

বর্তমানে শিবলী রুবাইয়াত কমিশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার তথা অর্থনীতি নিয়ে রোড শো করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। যদি এসব প্রচারণা ইতিবাচক হয়ে থাকে তাহলে বাজারে নতুন বিনিয়োগকারীদের আগমন ঘটবে। তাতে বাজার আবারও নতুন রেকর্ড গড়তে পারবে। তবে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীদেরই সচেতনতার সঙ্গে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বর্তমান কমিশন যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তা ধারাবাহিক চলতে থাকলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে কমিশনের মনিটরিং আরও জোরদার করতে হবে। যাতে কেউ বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে বিএসইসি’র।

তথ্যমতে, ২০২১ সালে ডিএসইএক্স অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে। একই চিত্র ছিল বাজার মূলধন এবং লেনদেনেও। ডিএসইএক্স গত ১০ অক্টোবর বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭ হাজার ৩৬৭ পয়েন্টে। যা ৮ হাজার পয়েন্টকে ছোঁয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নানা কারণে সূচকের উত্থান ধারা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এছাড়া গত ৯ সেপ্টেম্বর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছিল ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অতীতে কোনো সময় বাজার মূলধন এই পরিমাণ বাড়েনি। সেই সঙ্গে লেনদেনে রেকর্ড গড়ে পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৩ হাজার ২৪৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২১ সালের শুরুতে দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৬১৮ পয়েন্ট। ওই সময় বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৬৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। আর ২০২১ সালের শেষ কার্যদিবস বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৪২ হাজার ১৯৬ কোটি ৩৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকায়।

আলোচ্য সময়ের ব্যবধানে সূচক বেড়েছে ১৩৫৪ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন বেড়েছে ৯৩ হাজার ৯৬৬ কোটি ৩৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

এদিকে, বছরের শুরুতে লেনদেন ১ হাজার ৯২৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে গেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দেশের পুঁজিবাজার আন্ডার ভ্যালুট রয়েছে। এই বাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে ভালো রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ২০২১ সালে বাজারে লেনদেন, সূচকে যে গতি ফিরে পেয়েছিল তা ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের মতে, বাজারের অগগ্রতির সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের যতটা সক্রিয় হওয়া উচিত, তারা ততোটা সক্রিয় নয়। তারা যদি আরও সক্রিয় হয় তাহলে বাজারের গতি বাড়বে, লেনদেন বাড়বে এবং সর্বোপরি বাজার কাংখিত পর্যায়ে সামনের দিকে এগুবে।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/দি.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments