বুধবার, ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅন্যান্যযাঁরা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন, তাঁদের অবস্থান নিরাপদ নয়: আনিসুজ্জামান
spot_img
spot_img

যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন, তাঁদের অবস্থান নিরাপদ নয়: আনিসুজ্জামান

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক:

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, ‘আজকে মনে হয়, বাংলাদেশে যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করতে বলেন, তাঁদের অবস্থা সব সময় নিরাপদ নয়। বরং মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি অনেক ক্ষেত্রে বেশি শক্তি সঞ্চয় করছে। এটি আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি ব্যর্থতা।’
রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আজ সোমবার বিকেলে এক প্রতিবাদী নাগরিক সমাবেশে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এসব কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলীকে সপরিবারে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ড. সারওয়ার আলীর ওপর যে আক্রমণ হয়েছে, আক্রমণকারীরা যেসব জিনিস ফেলে গেছে, তা থেকে আমাদের মনে দৃঢ় ধারণা হয়, জঙ্গিরা যেভাবে মুক্তবুদ্ধির মানুষকে হত্যা করেছে, এটাও সে রকম। এর তদন্ত হচ্ছে। এই হত্যাচেষ্টার পেছনে ব্যক্তিগত আক্রোশ আছে—এটি আমাদের ভুল পথে নিতে পারে। আমাদের দাবি, তাঁকে হত্যার পেছনে জঙ্গিদের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, পুলিশ সেটি খতিয়ে দেখবে এবং ব্যবস্থা নেবে।’
ড. সারওয়ার আলীকে হত্যাচেষ্টায় নিন্দা জানিয়ে এই অধ্যাপকের দাবি, এ ঘটনায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার দিকটা যেন উপেক্ষা না হয়।
৫ জানুয়ারি রাতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলীর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। তাঁর উত্তরার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সারওয়ার আলী ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ও চিকিৎসক। তাঁর ধারণা, জঙ্গিগোষ্ঠী এই কাজ করেছে।
আজকের সমাবেশে ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘জাতির অন্যতম বিবেক সারওয়ার আলীকে হত্যাচেষ্টার আট দিন পেরোলেও রাষ্ট্র এ নিয়ে বিচলিত নয়। একদম পরিচিত কায়দায়, পদ্ধতিতে সারওয়ার আলীর ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে।’
পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের নির্মাতারা আক্রান্ত হবে আর এই দেশে মৌখিক মুক্তিযুদ্ধের চর্চা হবে, এই বৈপরীত্য নিয়ে বাংলাদেশ চলতে পারে না। সারওয়ার আলীর ওপর যদি এই আক্রমণ হতে পারে, তাহলে দেশের অন্য নাগরিকদের ওপর কী হতে পারে। এর ব্যাপারে রাষ্ট্রে কি বোধোদয় হলো না। আমরা চিন্তিত, উদ্বিগ্ন, বিচলিত, স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ।’
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী বলেন, ‘আমরা চাই, সরকার সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দিক, তারা কি ধর্মান্ধ বাংলাদেশ, নাকি লোকজ-সংস্কৃতিতে ধন্য বাঙালির অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ দেখতে চান? অবিলম্বের সকল ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করতে হবে, এদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকুক। যদি এই সরকার দেশকে ভবিষ্যতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে এই মূলনীতিতে অবস্থান পরিষ্কারভাবে জনগণকে জানাতে হবে।’ তাঁর আশা, দুষ্কৃতকারীদের খুব শিগগির ধরা হবে।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস। আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আজিজুর রহমান, রাজিয়া সামাদ, জাতীয় শ্রমিক জোটের কার্যকরী সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহসভাপতি রেখা চৌধুরী প্রমুখ।

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments