ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সিলেটের অন্যতম প্রধান সমস্যা ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়া। ফুটপাত ছাপিয়ে নগরের অনেক সড়কেরও বহুলাংশ দখল করে রেখেছেন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। ফলে নগরজুড়ে লেগে থাকে যানজট। হাঁটা-চলায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় পথচারীদের। এই দুর্ভোগ লাঘবে ২০২১ সালে অস্থায়ী মার্কেট নির্মাণ করে হকার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছিল সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। দুই বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ভেস্তে গেছে সেই উদ্যোগ। সিসিকের অস্থায়ী মার্কেটে আর বসেন না হকাররা। উল্টো নগরের ফুটপাত ছাপিয়ে তারা সড়কেরও বহুলাংশ দখল করে রেখেছেন। ফলে যানজট হয়েছে নগরের নিত্যসঙ্গী।

স্থানীয়রা বলছেন, সিটি করপোরেশন নজরদারি অব্যাহত রাখতে না পারার কারণেই হকার পুনর্বাসনের উদ্যোগটি চালু রাখা যায়নি। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন বলছে, হকারদের সিন্ডিকেট আর পুলিশের অসহযোগিতার কারণে এই উদ্যোগ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে লালদীঘির পাড়ে সিসিকের মালিকানাধীন জরাজীর্ণ মার্কেট ভেঙে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। মহানগর পুলিশের সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে লটারির মাধ্যমে ১ হাজার ৭০ জন হকারকে পুনর্বাসন করা হয় সেখানে। প্রত্যেক হকারের জন্য সাত ফুট বাই তিন ফুট জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়। হকাদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বাঁশ ও টিন দিয়ে অস্থায়ী মার্কেট নির্মাণ করে দেয় সিসিক। ক্রেতাদের সুবিধার্থে মাঠে মাছ ও শুঁটকি, সবজি, তৈজসপত্র ও বিবিধ নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে পৃথক লেনও করে দেয়া হয়। এ ছাড়া নগরের প্রতিটি ফুটপাতে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়- ‘মানুষের চলাচলের জন্য, হকারদের বসা নিষেধ।
প্রাথমিক অবস্থায় এ উদ্যোগে সুফলও মেলে। পুনর্বাসনের পর কিছুদিন জমজমাট ছিল লালদীঘির পাড়ের ওই অস্থায়ী মার্কেট। ওই সময় নগরের ফুটপাতগুলোও ছিল প্রায় ফাঁকা। সিটি করপোরেশন তখন নিয়মিতই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালাত।
নগরবাসী বলছেন, কিছুদিন যেতে না যেতেই সিটি করপোরেশনের নজরদারি শিথিল হলে আগের অবস্থা ফিরে আসে। ফের বেদখল হয়ে যায় ফুটপাত। তবে নগরকর্তাদের অভিযোগ, হকারদের সিন্ডিকেট আর পুলিশের অসহযোগিতার কারণে পুনর্বাসনের উদ্যোগ কার্যকর করা যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের লালদীঘির পাড়ে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত অস্থায়ী মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, ফাঁকা পড়ে আছে পুরো মাঠ। অস্থায়ী দোকানগুলোর বেশির ভাগই এখন আর নেই। হাতেগোনা কয়েকটি এখনো টিকে থাকলেও সেগুলো ফাঁকা পড়ে আছে।
একই সময়ে ওই মাঠ থেকে কয়েক ফুট এগিয়ে নগর ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাত ছাপিয়ে বন্দরবাজার-জিন্দাবাজার সড়কের বেশির ভাগ অংশই দখল করে আছেন হকাররা। ফলমূল, সবজি, মাছ, কাপড়, বাসনপত্র থেকে শুরু করে গাছের চারা, বাদাম, ঝালমুড়িসহ নানা পণ্যের পসরা তারা সাজিয়ে বসেছেন। সড়কের বেশির ভাগ অংশ হকারদের দখলে চলে যাওয়ায় এই সড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ফুটপাত ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের দখলে থাকায় পথচারীদেরও ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছিল। এ কারণে যানজট ছিল আরও বেশি।
পুনবার্সনের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়া প্রসঙ্গে সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী (নতুন নির্বাচিত মেয়র দায়িত্ব নেবেন অক্টোবরে) বলেন, ‘সবার সহযোগিতা ছাড়া কেবল সিটি করপোরেশনের পক্ষে ফুটপাত দখলমুক্ত করা অসম্ভব। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার প্রধান দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে নিষ্ক্রিয়। আবার হকারদের সিন্ডিকেট আছে। তাদের পেছনে রাজনৈতিক প্রশ্রয়ও আছে। হকারদের উচ্ছেদ করতে গিয়ে আমি কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছি।
মেয়র আরিফুল আরও বলেন, ‘ভালো উদ্যোগে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। নগরের বাসিন্দাদেরও সচতেন হতে হবে। তারা ফুটপাত থেকে পণ্য কেনা বন্ধ করে দিলে হকাররা সেখানে বসবেন না। কিন্তু আমাদের অভ্যাস হলো কষ্ট করতে চাই না। সবকিছু হাতের কাছে পেয়ে যেতে চাই। তাই নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রয়োজন।
অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘হকার উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সিটি করপোরেশনকে আমরা সব সময়ই সহযোগিতা করে আসছি।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.


































Recent Comments